Monday, October 18, 2021

আয় রোজগারে বরকত চাইলে করণীয়

আয় রোজগারে বরকত চাইলে করণীয়
একদম সংক্ষেপে বললে সম্পদে বরকতের জন্য কয়েকটি করণীয় বিষয় মনে রাখতে পারেন- ১। আয়রোজগারের কাজ একদম সকাল-সকাল (ফজরের নামাজ যিকর শেষে) শুরু করা। ২। যা-ই আয় হোক, তার নির্দিষ্ট একটা অংশ নিয়মিত দান করা। (এটা তিনভাগের একভাগ হতে পারে, এমনকি একশভাগের ১% ও হতে পারে।) ৩। অশ্লীল গুনাহ থেকে বাঁচা। ৪। বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। ৫৷ তাহাজ্জুদ পড়ে রিজিকে বরকতের দোয়া করা। ৬। রাতের বেলায় সুরা ওয়াকিয়া পড়া। (মাগরিব পর থেকে ঘুমের আগে, এরমধ্যে পড়লেই হবে।) ৭। প্রয়োজনে নিজে বদনজর বা অন্যান্য সমস্যার জন্য রুকইয়া করা। কর্মস্থলে / ব্যবসার যায়গায় রুকইয়ার পানি ছিটানো। ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া কাজের শক্তি-সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য রাতে ঘুমের জন্য বিছানায় গিয়ে তাসবিহে ফাতেমি (সুবহানাল্লাহ ৩৩বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩বার, আল্লাহু-আকবার ৩৪বার) পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।

Monday, July 19, 2021

কি কাজ করলে ফেরেশতাদের দু'আ পাবেন

কি কাজ করলে ফেরেশতাদের দু'আ পাবেন চলুন জেনে নিই। আসুন, এরকম (৫) টি সময়ের কথা জানি যখন আমরা ফেরেশতাদের দুআয় শামিল হতে পারব।

কি কাজ করলে ফেরেশতাদের দু'আ পাবেন

৫ সময়ে দোয়া করলে ফেরেসতাদের দোয়া পেতে পারেন

(১) দান সদকার সময়

দান সদকার সময় ফেরেশতাগণ দাতার জন্য দুআ করেন। নবীজি (সাঃ) বলেছেন, 

'প্রত্যহ সকালে বান্দা যখন উঠে, দুজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়। একজন দুআ করে ও আল্লাহ, যে দান করে আপনি তাকে দান করুন", দ্বিতীয় জন বলে যে (দান হতে হাত) গুঁটিয়ে রাখে, তাকে ধ্বংস করুন।

[সহীহ মুসলিম-(২৩৮৩)]


(২) মসজিদে সালাতের পর কিছুক্ষণ বসা অবস্থায়।

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাঃ) বলেন, সালাত আদায়ের পর ব্যক্তি যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ তার জন্য এ বলে দুআ করতে থাকেন ও আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।

[সহীহ বুখারী-(৬৪৭)]


(৩) মানুষকে উত্তম বিষয় শিক্ষা দেয়া

আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযি.) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবীজির সামনে দুজন ব্যক্তির কথা বলা হলো, যাদের একজন আবেদ, আরেকজন আলেম। (তাদের মাঝে কে উত্তম?) নবীজি বললেন,তোমাদের সর্বশেষ জনের ওপর আমার যেমন শ্রেষ্ঠত্ব, আবেদের ওপর আলিমের অনুরূপ শ্রেষ্ঠত্ব।এরপর তিনি বললেন,আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসী থেকে শুরু করে, পিঁপড়া থেকে পাথর, (জলের) মাছেরা পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু'আ করে, যে শিক্ষক মানুষকে উত্তম বিষয় শেখায়।

[জামি আত-তিরমিযী-(২৬৮৫)]


(৪) অসুস্থকে দেখতে যাওয়া

অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার সময় ফেরেশতাগণ দুআ করেন। নবীজি বলেন,যে ব্যক্তি অসুস্থকে দেখতে যায়, কিংবা আল্লাহর জন্য ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন,তোমার মঙ্গল হোক, তোমার জীবন সুন্দর হোক, জান্নাতের একটি মনজিল তোমার হোক।

[তিরমিযী (২১৩৯)]


(৫) অন্যের জন্য দুআ করা

নবীজি (সাঃ) বলেন, একজন মুসলিম যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতে দুআ করে, সেই দুআ কবুল করা হয়। সে সময় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা অবস্থান করেন। ব্যক্তি যখন তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দুআ করে ফেরেশতা বলেন আমিন তোমার জন্য ও অনুরুপ।

[মুসলিম (২৭৩৩)]

যেভাবে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

দোয়া করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক অশেষ রহমত। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন নিজেদের চাওয়া গুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করার। কিন্তু কোনোদিন কি আমরা নিজেদের দোয়ার ভাষা গুলো নিয়ে ভেবেছি?? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আজকে দোয়া করার ধরন সম্পর্কে কিছুটা লিখছি।

দোয়া কবুল হওয়ার উপায়

আমরা যখন কোনো কিছুর জন্য আবেদন করে কোনো দরখাস্ত লিখি তখন অবশ্যই আমরা চেষ্টা করি নিজেদের চাওয়া টাকে সর্বাত্মকভাবে তুলে ধরতে। তখন দরখাস্ত টা অনুমোদন করার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঠিক তেমনি আল্লাহর কাছে যখন আমরা কোনো দোয়া করি তখন আমাদের এমনভাবে নিজেদের দোয়া পেশ করতে হবে যাতে সেই দোয়া কবুল হওয়া আমাদের জন্য কতটা জরুরি তা বলতে পারি। 

দোয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এটাও দেখতে হবে যে আমরা কি চাচ্ছি আর কিভাবে চাচ্ছি। কারন দোয়া কবুলের জন্য সেটা অবশ্যই নেক উদ্দেশ্যে হতে হবে। আর দোয়া করলে আমাদের এই মাইন্ডসেট থাকতে হবে যে আমাদের দোয়া কবুল হবেই ইন শা আল্লাহ। 

আজকে আমাদের প্রত্যহ করা কিছু দোয়া আমরা সুন্দরভাবে যেভাবে আল্লাহর দরবারে পেশ করতে পারি তা আমি নিজের ধারণা থেকে বলছি। 

১.

❌ আল্লাহ অমুক ব্যাক্তিকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন।

✔ আল্লাহ যদি অমুক ব্যাক্তি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয় তবেই তাকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন নতুবা তার থেকে আমার মন ঘুরিয়ে দিন। 

২.

❌ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি চাকরি জুটিয়ে দিন।

✔ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি হালাল আর সম্মানজনক চাকরি জুটিয়ে দিন।

৩.

❌ আল্লাহ আমাকে মৃত্যু দিন( এই দোয়া অনেকেই করেন কোনো কষ্টে পড়লে। এটা অবশ্যই অনুচিত।) 

✔ আল্লাহ আমাকে সবর করার তৌফিক দিন।  আমাকে নেক হায়াত দিন। আর আমার সব গুনাহ মাফ হওয়া ছাড়া আমাকে এই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েন না।

৪.

❌ আল্লাহ অমুক আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তার উপর গজব নাজিল করুন।( অনেকেই এরকম চাইতে দেখেছি। এটাও খুবই অনুচিত)

✔আল্লাহ অমুককে হেদায়েত দিন। তাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দিয়েন। আর আমি যদি তাকে কষ্ট দিয়ে থাকি তবে তাকে আমাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দান করুন। এবং তার সাথে আমার সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে ঘনিষ্ঠ করে দিন।

৫. 

❌আল্লাহ তাড়াতাড়ি আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন। 

✔ আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীনদার আর নেককার জীবনসঙ্গী প্রদান করুন। এমন জীবনসঙ্গী দিন যে আমার চক্ষু শীতল করবে, আপনাকে ভালোবেসে আমাকে ভালোবাসবে, আমার ইলম অর্জনের সহযোগী হবে, আর যে আমার জান্নাতের সঙী হবে। (অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা, বংশগত মর্যাদা ও নিজেদের মতো উল্লেখ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আগে দ্বীনকে প্রাদান্য দিবেন।)

৬. 

❌আল্লাহ আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।

✔আল্লাহ আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন। আমাকে পর্যাপ্ত ইলম দান করুন, ইলম অনুযায়ী আমল করার আর তা সবার কাছে পৌঁছে  দেয়ার তৌফিক দান করুন। 

৭. 

❌আল্লাহ আমাকে সন্তান দান করুন।

✔ আল্লাহ আমাকে নেককার সন্তান দান করুন। এমন সন্তান দান করুন যে দুনিয়া ও আখিরাতে আমার জন্য কল্যাণকর হবে।

৮.

❌ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ করে ফেলেছি।।আমাকে মাফ করুন।

✔ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ মাফ করুন। আর আমাকে এমনভাবে হেদায়েত দিন যাতে আমি পুনরায় এই গুনাহ না করি। সেই গুনাহ আর আমার মাঝে একটি দেয়াল করে দিন।

আরো অনেক দোয়াই লিখা যায় এরকম। আজকে কমন কয়টা নিয়ে লিখলাম। আর দোয়া করার সময় আল্লাহর গুনবাচক নামগুলো দিয়ে দোয়া করার চেষ্টা করবেন। যেমনঃ চাকরির জন্য চাওয়ার সময় আর- রজ্জাক( আল্লাহ রিযিকদাতা), ক্ষমা চাওয়ার সময় আল- গফফার (আল্লাহ ক্ষমাশীল)।  এভাবে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর অবশ্যই দোয়া কিংবা মুনাজাতের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা আদায় করবেন, তারপর নবীজী (স) এর উপর দুরুদ শরিফ পাঠ করবেন। দোয়া শেষ করার আগেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। ইন শা আল্লাহ দোয়া কবুল হবেই। 

নিজের সীমিত জ্ঞান থেকে লিখেছি। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। 

Sunday, July 4, 2021

বিপদ পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে লজ্জার কিছু নেই

বিপদ পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে লজ্জার কিছু নেই

বিপদ-আপদে পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমরা বিভিন্ন সময় বিপদে পড়ি। তখন আমাদের মনে রাখতে হবে কিছু বিষয় চলুন জেনে নেয়া যাক।

❖ আল্লাহ্ তা‘আলা প্রধানত মানুষের উপর বিপদ-মুসিবত পাঠান দুটো কারণে। 

(১) গুনাহের শাস্তিস্বরূপ, যাতে তারা এই শাস্তির মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো (পাপ) কাজের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে।’’ [সুরা আর-রুম, আয়াত: ৪১]

(২) আল্লাহ্ তা‘আলা এই বিপদের মাধ্যমে মানুষের অনেক গুনাহ ক্ষমা করতে চান।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আর, তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’’ [সুরা শুরা, আয়াত: ৩০]


❖ এমতাবস্থায় অধিকাংশ মানুষ কী করে?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘মানুষকে যখন দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে-বসে-দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর, আমি যখন তার দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে, যেন সে আপতিত দুঃখ-কষ্টের জন্য কখনোই আমাকে ডাকেনি।’’ [সুরা ইউনুস, আয়াত: ১২]

❖ বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আসলে লজ্জার কিছু নেই; বরং প্রশংসনীয় ব্যাপার।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার (পক্ষ হতে) শাস্তি আপতিত হলো, তখন তারা কেনো বিনীত হলো না?’’ [সুরা আন‘আম, আয়াত: ৪৩]

আল্লাহ্ নিজেই বলছেন, বিপদে পড়ার পর যাতে আমরা আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দু‘আ-কান্নাকাটি করি, নিজ ভুলের স্বীকৃতি দিই। এটি আল্লাহ চান যে, মুসিবতে পড়লে আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাই। অথচ, যখন কিছু মানুষ অসুস্থতায়, মৃত্যুভয়ে, বিপদ-মুসিবতে, ডিপ্রেশনে, রিলেশন ব্রেক-আপের কষ্টে, পারিবারিক ঝামেলায় বা অন্য কোনো বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের নিয়ে অনেতে ট্রল করা শুরু করেন! এমন নোংরা কাজের জন্য আল্লাহ কঠিনভাবে পাকড়াও করবেন। এমনকি পূর্বসূরি অনেক আলিম বলেছেন, কোনো মন্দ কাজ থেকে তাওবাহকারী ব্যক্তিকে যদি কেউ সেই কাজের জন্য লজ্জা দেয়, তবে সেই ব্যক্তির মৃত্যু ততদিন আসবে না, যতদিন না সে নিজেও এই কাজে জড়াবে। [তাফসিরে কুরতুবি]

এখন আপনি বলবেন, অনেকে তো শো-অফ করার জন্য বাহ্যত ধার্মিক সাজে। এরপর বিপদ কেটে গেলে আগের মতো হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্পষ্ট কথা হলো, কে কোন্ ইনটেনশন (নিয়ত) থেকে ধর্মে ফিরে আসেন, তার বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ আমার-আপনার উপর ন্যস্ত করেননি। মানুষের অন্তর ফেঁড়ে দেখাও আমাদের দায়িত্ব নয়। যিনি অন্তর্যামী, এই কাজটা তাঁরই। সুতরাং এতটা জাজমেন্টাল হবেন না। তাদের ফিরে আসাকে এপ্রিশিয়েট করুন, উৎসাহ দিন, তাদের জন্য দু‘আ করুন; নিজের হিদায়াতের জন্যও দু‘আ করুন। আমরা প্রত্যেকেই হিদায়াতের কাঙাল।

নিজ স্ত্রী ব্যাতিত অন্য কারো সাথে প্রেম করার পরিণাম

নিজ স্ত্রী ব্যাতিত অন্য কারো সাথে প্রেম করার পরিণাম

নিজ স্ত্রী ব্যাতিত অন্য কারো সাথে প্রেম করার পরিণাম কি হবে জেনে নিন। যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে কুমতলবের ইচ্ছা নিয়ে স্পর্শ করবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে যে তার হাত তার ঘাড়ের সাথে যুক্ত থাকবে। সে যদি কোনো নারীকে চুমু দিয়ে থাকে, তাহলে তার ঠোঁট দুটিকে আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হবে। আর যদি তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তাহলে তার দুই উরু সাক্ষী দিবে, আমি অবৈধ কাজের জন্য আরোহণ করেছিলাম।

তখন আল্লাহ তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবেন এবং এতে সে অপমান বোধ করে গোয়ার্তুমি করে বলবে ; আমি এ কাজ করিনি। তখন তার জিহ্বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে বলবে, ‘আমি অবৈধ বিষয়ে কথা বলেছিলাম’। তার হাত সাক্ষী দিবে, ‘আমি অবৈধ বস্তু ধরেছিলাম’। এরপর চক্ষু বলবে, ‘ আমি অবৈধ বস্তুর দিকে তাকাতাম’। তার দুখানা পা বলবে, ‘ আমি ব্যভিচার করেছি’। প্রহরী ফেরেশতারা বলবে, ‘ আমি শুনেছি’। অন্য ফেরেশতা বলবে, ‘আর আমি লিখে রেখেছি’। আর আল্লাহ বলবেন, ‘আমি জেনেছি এবং লুকিয়ে রেখেছি’। 

এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘হে ফেরেশতাগণ! একে পাকড়াও করে আমার আযাব ভোগ করাও। কেননা যে ব্যক্তির লজ্জা কমে যায় তার উপর আমার ক্রোধের অন্ত নাই"" 

এ হাদীসের সমর্থন নিম্নের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়ঃ “যেদিন তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও পা সাক্ষী দিবে”। [সূরা আন নূর-২৪]

অন্য আয়াতে আছে, ".. যারা ব্যভিচার (বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা) করবে, তারা দ্বিগুণ শাস্তি ভোগ করবে, এবং অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে.." (সূরা আল ফুরকান : ৬৮- ৬৯) 

“কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে,এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযালঃ৭-৮)

এসব হারাম সম্পর্কগুলো সৃষ্টি হয় দৃষ্টির মাধ্যমে। এজন্য হাদীসে দৃষ্টিকে শয়তানের তীর বলা হয়েছে। বেগানা নারীর সৌন্দর্য উপভোগ করাকে চোখের জিনা বলা হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নারী পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টির হেফাজত করতে আদেশ করেছেন (সূরা নূর: আয়াত ৩০-৩১)। 

রাসূল্লাহ (স:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোন বেগানা নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে , কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে॥" (ফাতহুল কাদীর)

আল্লাহর ভয়ে মেয়েদের সৌন্দর্য উপভোগ করা, কুদৃষ্টি ও কামনার দৃষ্টি  ত্যাগ করুন,আর অন্তরের মধ্য ইমানের মাধুরতা উপভোগ করুন।  এটা পরীক্ষিত সত্য। আল্লাহ আমাদের দৃষ্টির হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। প্রেম, পরকীয়া সহ সব ধরণের হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

Thursday, April 22, 2021

হতাশ হয়োনা নিরাশ হয়োনা

হতাশ হয়োনা নিরাশ হয়োনা

প্রতি বছর একটা ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে  বাবা মায়ের সাথে ট্রেনে করে নানা বাড়ি যায়। ছুটি শেষ হলে সেই ট্রেনে করে ফিরে আসে। এবারও গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে। এ বছর ছেলেটি  বাবা-মাকে বলে-আমি এখন অনেক বড়  হয়েছি। আমাকে এবার একাই নানাবাড়ি যেতে দাও।

অনেকে আলোচনার পর অবশেষে বাবা মা রাজি হন।  ছেলে ট্রেনে বসে আছে। বাবা মা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।  আদর দিচ্ছেন, সাহস দিচ্ছেন, অভয় দিচ্ছেন, দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। ট্রেনে ছাড়ার হুইসেল বেজে গেছে।  ঠিক এমন মুহুর্তে বাবা ছেলের কানে কানে বলেন-যখনই তোমার মনে  কোনো ভয়, শংকা আসে তবে এটা তোমার জন্য। এটা তুমি  সযতনে রাখো।

ট্রেন চলতে শুরু করেছে। সাঁ সাঁ করে ছুটছে। সব কিছু মুহুর্তেই পেছনে পড়ে যাচ্ছে। জীবনে এই প্রথম ছেলেটি একেবারে একা। সবচেয়ে প্রিয়জন বাবা-মা কেউ  তার সাথে নেই। একেকটা নতুন স্টেশান আসে। কেউ নামে, কেউ ওঠে। কত রকমের ছুটোছুটি। নানা রকমের মানুষের নানা রকমের ব্যস্ততা। 

ছেলেটি এবার  খুব নিঃসঙ্গতা  অনুভব করতে থাকে। কেউ একজন এমনভাবে তার দিকে তাকায়- সে আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়। ট্রেন যত ছুটছে- জানালার বাইরে যত অন্ধকার নেমে আসছে। তার একাকীত্ব আর ভয় দুটোও বাড়ছে। 

সে চুপচাপ বসে রইলো। বুঝতে পারছেনা কি করবে। ঠিক তখনই তার মনে হলো- বাবা তার পকেটে কি একটা রেখে বলেছিলেন- যদি মনে কোনো ভয় আসে। তখন সে যেন- তার পকেটে রাখা জিনিসটা দেখে।

কাঁপা কাঁপা হাতে সে পকেটে হাত রেখে  বুঝতে পারে পকেটে একটা ছোট কাগজ। সেখানে বাবার হাতে লেখাঃ

কোনো দুঃশ্চিন্তা করোনা, ভয় পেয়োনা। বাবা তোমার পাশেই আছেন। বাবা তোমার অতি নিকটে- তোমার পাশের  কম্পার্টমেন্টেই আছেন। 

এটাই মানবজীবন। 

যখনই কোনো ভয়,কোনো দুঃশ্চিন্তায় গ্রাস করে, কোনো শঙকা- কোনো দ্বিধায় মনকে বিচলিত করে, ঠিক  তখন সাহস আর ভরসা  পাওয়ার জন্য   রাব্বুল আলামীনও আমাদের কাছে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে অভয় দিয়েছেন।

 সেখানে লিখাঃ 

"লা তাহজান ইন্নাল্লাহা মা'আনা" (সুরা:আত-তাওবাহ আয়াত-৪০)

হতাশ হয়োনা। নিরাশ হয়োনা। ভয় পেয়োনা। তোমাদের রব তোমাদের সাথে আছেন। 

কোনো বিপদে , মুসিবতে  খুব একা হয়ে গেলে-  আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।  তাকে ডাকো। তিনি তোমাদের খুব নিকটেই আছেন। তিনি  মানুষকে জীবন দিয়েছেন। এই জীবনের যাত্রাপথে  তিনি তোমাদের সাথেও  আছেন।

লিখেছেনঃ আরিফ মাহমুদ

Wednesday, September 30, 2020

টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরা

 (পুরুষদের জন্য) টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরা হারাম এবং কবীরা গোনাহ

লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট অথবা যে কোন কাপড় টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে পরা কবীরা গুনাহ্। চাই তা গর্ব করেই হোক অথবা এমনিতেই।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِيْ النَّارِ. ‘‘লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্টের যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে যাবে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’’। (বুখারী ৫৭৮৭)

যে ব্যক্তি টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান করে আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরা


আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلَا يُزَكِّيْهِمْ، وَلَـهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ، قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ  ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ: خَابُوْا وَخَسِرُوْا، مَنْ هُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ!؟ قَالَ: الْـمُسْبِلُ، وَالْـمَنَّانُ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: الْـمَنَّانُ الَّذِيْ لَا يُعْطِيْ شَيْئًا إِلاَّ مَنَّهُ، وَالْـمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ. 

‘‘তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাগুলো তিন বার বলেছেন। আবূ যর (রাঃ) বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী’’। (মুসলিম ১০৬; আবূ দাউদ ৪০৮৭, ৪০৮৮)


জাবির বিন্ সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: وَارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ، وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْـمَخِيْلَةِ، وَإِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْـمَخِيْلَةَ. ‘‘তোমার নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেকে উঠিয়ে নাও। তা না করলে অন্ততপক্ষে পায়ের গিঁট পর্যন্ত। তবে গিঁটের নিচে পরা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকবে। কারণ, তা অহঙ্কারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ তা‘আলা অহঙ্কার করা পছন্দ করেন না’’। (আবূ দাউদ ৪০৮৪)

জামা এবং পাগড়িও গিঁটের নিচে যেতে পারবে না।


আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: الْإِسْبَالُ فِيْ الْإِزَارِ وَالْقَمِيْصِ وَالْعِمَامَةِ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. ‘‘গিঁটের নিচে পরা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট, জামা, পাগড়ি ইত্যাদির মধ্যেও ধরা হয়। যে ব্যক্তি গর্ব করে এগুলোর কোনটি মাটিতে টেনে চলবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না’’। (আবূ দাউদ ৪০৯৪)

অসতর্কতাবশত প্যান্ট, লুঙ্গি বা পাজামা গিঁটের নিচে চলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা গিঁটের উপরে উঠিয়ে নিবেন। 

উৎস: “হারাম ও কবীরা গোনাহ” বই 

আল্লাহ সুবহানাহু আমাদের হারাম থেকে বাঁচার তাওফীক দিন।

ওমা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ।

আল্লাহুম্মা আমিন।

Monday, September 28, 2020

ইসলামে ধর্ষকের শাস্তি কি?

ইসলামে ধর্ষকের শাস্তি কি?

 প্রশ্ন: ইসলামে ধর্ষকের শাস্তি কি?

উত্তর: কেউ যদি কোন নারীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে তাহলে তাতে দু ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয়। সুতরাং তার শাস্তিও দু প্রকার।

⚫ একটি অপরাধ হল, জিনা বা ব্যভিচার। ইসলামী ফৌজদারি আইন অনুযায়ী এর শাস্তি হল, বিবাহিত হলে রজম তথা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আর অবিবাহিত হলে একশ চাবুকাঘাত।

উল্লেখ্য যে, পারস্পারিক সম্মতিতে জিনা সংঘটিত হলেও ইসলামের এই কঠিন বিধান প্রয়োগ করা হবে। 

 ⚫ অপরটি হল, অপহরণ বা শক্তি প্রয়োগ। এটি ডাকাতি পর্যায়ের অপরাধ। এর শাস্তি নিম্নরূপ: আল্লাহ তাআলা বলেন-

 إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ 

“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্ত ও পদযুগল বিপরীত দিক থেকে (যেমন ডান হাত ও বাম পা অথবা বাম হাত ও ডান পা) কর্তন করা হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।” (সূরা মায়িদাহ: ৩৩)

শরিয়া কোর্টের বিচারকগণ সার্বিক দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর উপর উপরোক্ত কুরআনের আইন বাস্তবায়ন করবেন।

🔸 উল্লেখ্য যে, ২য় আইনটির ক্ষেত্রে ব্যভিচার করা শর্ত নয়। অর্থাৎ কেউ যদি অস্ত্রের মুখে কোন নারীকে অপহরণ করে বা জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তাহলে তার উপর  উক্ত আইন বাস্তবায়িত হবে; ধর্ষণ হোক বা না হোক। আর ধর্ষণ হলে তখন অপরাধ দুটি বলে গণ্য হবে এবং দুটিরই শাস্তি বাস্তবায়িত হবে। 

🔸 এ শাস্তি কেবল ধর্ষণকারীর উপর প্রয়োগ হবে; ধর্ষিতার উপর নয়। কেননা, ধর্ষিতা এখানে নিরপরাধ বরং সে জুলুমের শিকার হয়েছে। 

🔸 বিবাহিত ও অবিবাহিত নারী/পুরুষ জিনা করলে বিবাহিত ব্যক্তির উপর বিবাহিতের  জন্য যে দণ্ড তা প্রয়োগ হবে আর অবিবাহিত উপর অবিবাহিতের জন্য যে দণ্ড তা প্রয়োগ হবে।

আল্লাহু আলাম।


লেখাঃ শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

Tuesday, September 15, 2020

যে ব্যক্তি মানুষের শোকর আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরও করে না

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন - "যে ব্যক্তি মানুষের শোকর আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরও করে না। " (তিরমিযী : ১৯৫৪)।

শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিভিন্ন শব্দ আমরা ব্যবহার করে থাকি, যা অধিকাংশই অনর্থক কিন্তু এমন একটি শব্দ রয়েছে যার দ্বারা কৃতজ্ঞতা আদায়ের সাথে দু'আ করাও হয়ে যায়। শব্দটি হলো জাযাকাল্লাহু খইরন। এটি একটি  ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।

যে ব্যক্তি মানুষের শোকর আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরও করে না।


১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই “খাইর” শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হল।


২। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।


৩। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।


৪। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।


৫। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।


৬। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।


৭। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।


৮। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।


৯। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।


১০। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।


এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগুনিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন” বলে।


ﻋﻦ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣَﻦْ ﺻُﻨِﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻌْﺮُﻭﻑٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻔَﺎﻋِﻠِﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ) .

ﺭﻭﺍﻩ ” ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ” ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ ” ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ”


অর্থঃ হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার আচরণ করা হলো তাই সে ব্যক্তি আচরণকারীকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলল, তাহলে সে তার যথাযোগ্য প্রশংসা করল।



ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ” ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ”


অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন তার ভাইকে বলে, “জাযাকাল্লাহু খাইরান” তাহলে সে তার ভূয়সী প্রশংসা করল।



ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻟَﺄَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ . ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ﻻﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ )


হযরত ঊমর (রাযি.) বলেন, তোমাদের কারো যদি জানা থাকত যে, তার অপর ভাইকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলার মধ্যে তার জন্য কি রয়েছে!

তাহলে তোমরা একে অপরের জন্য তা বেশি করে বলতে।

সকালবেলার ঘুম রিজিক আসতে বাধা দেয়

ফজরের পর ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, যত কষ্টই হোক। এসময় পড়াশোনাসহ যেকোন কাজ করুন, বরকত পাবেন ইনশাআল্লাহ্।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলার মধ্যে তাদের বরকত দাও।’ [আবু দাউদ: হাদিস নং- ২৬০৮]


ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "দিনের প্রথম অংশটি একজন ব্যক্তির যৌবনকালের মত। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠুন এবং আপনার সকালকে কাজে লাগান।"


যারা ফজরের সলাতই পড়েন না বা পড়তে পারেন না, তারা নিঃসন্দেহে লুজার, হতভাগা। কারণ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কোনো দায় নেই। সহিহ হাদিসে এসেছে, ফজরের সলাত পড়লে ব্যক্তি আল্লাহর যিম্মায় চলে যায়।

সকালবেলার ঘুম রিজিক আসতে বাধা দেয়

যারা ফজরের সলাত পড়েন তাদেরও বড় একটি অংশ ফজরের পর আবার বিছানায় গা এলিয়ে দেন। এটি বাদ দিতে হবে। কারণ ফজরের পরের সময়টাতে রিযিক বণ্টিত হয় মর্মে সালাফগণের উক্তি আছে। এ সময়ে ঘুমানো মানে নিজের লস। এছাড়া মুসলমানদের ঐতিহ্যই হলো, ফজরের পর দীর্ঘ সময় নিয়ে যিকর করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা। এগুলোর দ্বারা দিনটা শুরু করতে পারলে মনটা অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরে ওঠে।


রাতের বেলায় অবশ্যই ১১/১২-টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। সম্ভব হলে ১০-টার মধ্যে। তাহলে ইনশাআল্লাহ্ ফজরের পরের ঘুম বাদ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের আলস্য দূর করুন। আমীন।

🔎 Tasbeeh

Monday, August 31, 2020

হতাশা দুর করার উপায় কি

আমি বুঝি না মানুষ কীভাবে মনে করে যে আল্লাহ তাকে কষ্ট দিয়ে, ডিপ্রেশনে আক্রান্ত করে মজা পান? আল্লাহ তো তাকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথের দিশা দিতে তার মনটা একটু খারাপ করে দেন, যেন তার মন খারাপ হলে সে মনের মালিকের নিকট ফেরত আসে।

হতাশা দুর করার উপায় কি


মুমিন ডিপ্রেশনে ভুগলে তার রবের সাথে তার সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়। যখন মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে, তখন তার মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে। প্রতিটি শব্দ রক্তমাখা হয়ে থাকে। এই মুহূর্তে যদি রবের দরবারে হাত তোলা যায়, ড্যাম শিউর যে মুখ থেকে বলার আগেই দু'আ আরশে আজীমে পৌঁছে যাবে। আপনাকে যিনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন, যিনি আপনার সর্বাধিক আপন, তিনি আপনার কষ্টমাখা কথাগুলো শুনে স্থির থাকতে পারবেন না৷ আপনার কষ্টে হৃদয়ের রক্তে মাখা আপনার রবের রহমতের দরিয়ায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি করবে।


আপনার বেস্টফ্রেন্ড না, সাধারণ সহপাঠী। ডিপ্রেশনের সময়ের কথাগুলো যদি তাকেও বলেন, তার মনে আপনার জন্যে দরদ উথলে উঠবে। তাহলে আপনার বেস্টফ্রেন্ড, স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা সবার চেয়ে যিনি আপনাকে বহুগুণে বেশি ভালোবাসেন; তিনি আপনার এত আবেগমাখা কথাগুলো শুনে কী করে স্থির থাকতে পারেন?


ডিপ্রেশনের সময় রবের দরবারে যদি হাত তুলতে পারেন, তাহলে সেটা হবে আপনার জীবনের পরম সৌভাগ্য। দু'আ যত কেঁদেকেটে করবেন, তার কাবুলিয়্যাতের চান্স ততবেশি হবে। দু'আর সময়ের কথাগুলো যতবেশি আবেগে মাখা থাকবে, রাব্বে কারীমের দরবারে এর মর্যাদা ততবেশি হবে।


কথাগুলো কোনো নাসীহা না, এগুলো ফ্যাক্ট। মানুষকে নসীহত করার যোগ্যতা ও বয়স কোনোটাই আমার হয়নি। আমি জাস্ট ফ্যাক্টটা আপনার সামনে তুলে ধরলাম। এর সত্যতা আপনি নিজে যাচাই করে দেখতে পারেন।


~আবরার আমীন

কিভাবে গান শোনা বাদ দেব?

গান শোনা ছাড়ার জন্য নিজের ইচ্ছা শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ন । আমি আমার নিয়তের উপর কতটা খালেছ এটা জরুরি। কাজেই পাক্কা নিয়ত থাকতে হবে । তারপর দরকার আল্লাহ সুবহানু তায়লার সাহায্য । আল্লাহ সুবহানু তায়লার কাছে বেশী বেশী দুয়া করা তিনি যেন আমাকে সাহায্য করেন । গান ছাড়ার জন্য আপনাকে আপনার ফোন, পিসি , মেমরি আশে পাশে যত ডিভাইস আছে তার সব গান ডিলিট করতে হবে। শয়তানের ধোকার দুই একটা পছন্দের গান রেখে দেবো, এটা করা যাবে না।

কিভাবে গান শোনা বাদ দেব


#গান তো কেটে ফেললাম এখন তার বদলে কি শুনব?

এটা একটা গুরুত্ব পূর্ন প্রশ্ন। এক্ষত্রে সাজেস্ট করা যায়।


১/ লেকচারঃ এই টাইম টাতে বেশী বেশী লেকচার শুনুন ।যা আপনার ইমান তাজা করতে সহায়তা করবে।লেকচার হিসেবে প্রাথমিক অবস্থায় এগুলা শোনা যায়ঃ


হেয়ার আফটার সিরিজ।প্রথমিক ভাবে যারা দ্বীনে আসেন তাদের জন্য এর থেকে উপকারি কিছু আছে কিনা জানা নেই।

এটার সাথে সাথে নবী কাহিনি শুনতে পারেন । নবী গন হচ্ছেন আমাদের পর্থিকৃৎ আমাদের আইডলদের থেকে শিক্ষা নেয়া আমাদের জন্য জরুরি ।তাছাড়া ঘটনা গুলো অনেকটা গল্পের মত হওয়াতে শুনতে ভালো লাগেব।

ইংরেজিতে পারদর্শী হলে ভালো কোন সিরাহ শুনতে পারেন ,সেই সাথে সাহাবাদের জিবনি ।আমি এ ব্যাপারে প্রিফার করব শাইখ আওলাকির লেকচার।

শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর কিছু লেকচার ও শুনতে পারেন।

মাওলানা যুলফিকার আহমেদ এর কিছু সর্ট উর্দু বয়ান আছে খুব তাছির করে।

শাইখ তামিম আল আদনানির লেকচার গুলা খুবি ইফেকটিভ । সাথে সুন্দর ভিডিও ভালো লাগবে ।


২/ কোরান তেলাওয়াতঃ কোরান আপনার অন্তরকে প্রশান্ত করবে। অন্তরকে নরম করবে। এ ক্ষেত্রে একবারে বড় সুরা গুলা শুনার ধৈর্য্য নাও থাকতে পারেন ছোট ছোট হার্ড টাচিং আয়াত শুনুন।


৩/ নাশিদঃ অল্প কিছু মিউজিক বিহিন নাশিদ শুনতে পারেন। যত কম শোনা যায় । এ ব্যাপারে রনাজ্ঞন, নওসাদ মাহফুজ, আবু আলী সাজেস্ট করা যায়।


আরেকটা জরুরি কাজ হচ্ছে যেসব ফ্রেন্ড গান শোনে তাদের থেকে দূরে থাকা ।

পরিবারে সাথে সময় কাটাতে পারেন ।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ুন।

নাটক, সিনেমা, টিভি দেখা ত্যাগ করুন।


এর পরের যদি শয়তান ধোকা দেয় , তাহলে শাস্তির ব্যাবস্থা রাখুন। মানে ধরুন আপনি ভুলে গান শুনে ফেলেছেন । প্রতিটা গানের জন্য দুই রাকাত করে নফল সলাত আদায় করুন। এটা আপনার ডেস্কের সামনে লিখে রাখতে পারেন বা একটা চার্ট বানাতে পারেন । সপ্তাহ শেষে হিসাব করুন কয় রাকাত সলাত আদায় করেছেন ।


© সাজ্জাদুর রহমান শাওন

যারা চান গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকতে

যারা চান গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকতে

যারা চান গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকতে, তবে সেটা পাড়ছেন না..তাদের জন্য একটা magical tips বলি৷ নিজের experience টা share করি৷


আমি সাধারণত আগে সারাদিন ইন্টারনেটে থাকতাম, এখনো থাকি তবে আগে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করতাম(যেটা আমাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলো)💔, আর এখন ইন্টারনেট'টা ভালো দিকে'ই ব্যবহার করছি আলহামদুলিল্লাহ ৷


আমার মধ্যে যখন জাহান্নামের আগুনের ভয় ডুকে যায়, তখন থেকে আস্তে আস্তে হাদিস পড়া শুরু করছিলাম ৷ তবে তখন'ও আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি নি(নামাজ)৷ তখনো আমি পাড়ছিলাম'না নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে৷


এরপর আমি আমার আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ শুরু করি (আলহামদুলিল্লাহ)❤৷ নামাজ পড়তাম,তবে regular না ৷ নামাজে কেদেঁ কেদেঁ বলতাম "ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে পাপ থেকে দূরে রাখেন৷


Trust me ভাই-বোন'রা কয়-একদিন পর,আমার সব পাল্টে যায় ৷ ফেসবুকের পিক ডিলিট,ফোনের গান ডিলিট,even সব রকম গানের গ্রুপ থেকে leave নেই ৷ এরপর নিজের সৌন্দর্য্য গোপনের জন্য পর্দা শুরু করি(আলহামদুলিল্লাহ)🖤৷ এইসব আল্লাহর রহমত ছাড়া সম্ভব হতো না ৷ 💘👈🏻


আল্লাহ হাদিস শরীফে এরশাদ করেছেন " আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’’ [বুখারি ৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৬, ৭৫৩৭, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযি ২৩৮৮, ইবন মাজাহ ৩৭২২, আহমদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ৯৪৫৭]


সুতরাং খাস দিলে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা শুরু করুন, দেখবেন সব পাপ থেকে আপনি দূরে থাকবেন ৷ Trust me শয়তান আপনার কাছে'ও ঘেসতে পারবেন না৷ তবে শুরু করুন আজ থেকে নামাজ পড়ার অভ্যস, magical tips টি কাজে লাগান,দেখবেন জীবন কতো সুন্দর হয় ইহকাল ও পরকালে৷❤🖤

নিজের পরিবারকে ইসলামী পরিবার হিসেবে প্রস্তুত

নিজের পরিবারকে ইসলামী পরিবার হিসেবে প্রস্তুত

আমরা সবচাইতে বেশি উদাসীন আমাদের পরিবার নিয়ে। বাইরের মানুষদের নিয়ে আমরা যতটা বেশি চিন্তিত ঘরের মানুষগুলো আমাদের কাছে ঠিক ততটাই অবহেলিত! আমরা অনেকেই দ্বীনের জ্ঞান অন্যের কাছে বিতরণ করি।বন্ধু-বান্ধব, নিকট আত্নীয় অনেকেই নিয়ে আশা রাখি যে,তারা দ্বীনের কাফেলার সাথী হোক কিন্তু সবার আগে এই চিন্তাটা হওয়া উচিত ছিল আমাদের পরিবারগুলো নিয়ে!

আমার মা হয়ত খুব একটা পর্দা করতে সাচ্চন্দ্যবোধ করেন না, মাহরাম-ননমাহরাম নিয়ে সচেতন নন বললেই চলে, প্রতিবেশীর সাথে "গীবত" এর মত জঘন্য "কবিরাগুনাহ" এ লিপ্ত কিংবা আমার বাবা হয়ত সিগারেটে আসক্ত নয়ত চোখের হেফাজত নিয়ে কোন আক্ষেপ-ই তার নেই, হালাল-হারাম নিয়ে সচেতনতার নামগন্ধও তার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না নতুবা সর্বকনিষ্ঠ সহোদর আজ হয়ত হস্তমৈথনের বিষাক্ত বাতাসে আসক্ত, নাচ-গান, টিভি, গেমস, সিনেমার নায়ক-নায়িকার রোমান্টিকতার ছোঁয়ায় পাগলপারা এমনও হতে পারে যুগের তালে অবৈধ সম্পর্কের নষ্টামিতে জীবনকে সাঁজাতে ব্যতিব্যস্ত!


এসবই আমাদের খুব করে জানা; কিন্তু সেই সৎ সাহস-ই হয়ত আমাদের নেই যে,আমরা এসব অনৈতিক কাজে আওয়াজ তুলব, তাদেরকে সচেতন করব!অথচ বাইরের অনলাইন কিংবা অফলাইনের মানুষগুলো নিয়ে আমাদের আক্ষেপের জুড়ি নেই। পক্ষান্তরে,পরিবারের সদস্যদের জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার ব্যাপারে আমরা মোটেও উদ্ধিগ্ন নই। যাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের সম্পর্কে আমরা বেশি জিজ্ঞাসিত হব তাদের ব্যাপারেই আমরা সবচাইতে বেশি উদাসীন। কিন্তু বাস্তবতা হওয়া উচিত ছিল এর ঠিক উলটো!


প্রতিটা মানুষ যদি আগে পরিবার, পরে সমাজ ও শেষে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে ভাবত তবে পৃথিবীতে এত অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য সৃষ্টি হত না। পারিবারিক নৈতিকতার অবক্ষয় আজ আমাদের সমাজকে কোলষিত করেছে। নিজেকে পরিবর্তনের পর সবার আগে পরিবারকে প্রাধান্য দিন দেখবেন প্রতিটা সমাজই বদলে যাবে,অন্ধকার কেটে গিয়ে উদিত হবে নতুন দিনের নতুন সূর্য।


রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারকে এমনভাবে গড়েছিলেন যে, তার পরিবারের প্রতিটা সদস্যের চরিত্রই ছিল শিক্ষণীয়। কেউ পরিবারের ওপর আঙ্গুল তুলে বলতে পারে নি যে আপনার পরিবারের ওমুক সদস্য এমন! আমাদের ভাই-বোনদের হয়ত পরিপূর্ণ পাব না, মা-বাবাদের প্রতি সম্মানবোধের কারণে হয়ত তাদের সেভাবে শুধরে দিতে পারব না তবে সবার আগে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।


তাদের "গীবত" নিয়ে সচেতন করার আগে আমি নিজে গীবতের বিষয়ে শতভাগ সচেতন কিনা, পর্দার বুলি আওড়ানোর আগে নিজের চক্ষুকে হেফাজতের কোন অবহেলা আমার মাঝে আছে কিনা, ছোট ভাই-বোনদের শাসনের আগে এটা বিবেচনা করতে হবে তাদের প্রতি আমি স্নেহশীল কিনা; নাকি আদরের তুলনায় বেশি কঠোর, বড় ভাই-বোনদের সচেতন করার আগে ভেবে দেখতে হবে তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল কিনা! কেবল তখনই অন্যদের কাছে আমার নসিহত গ্রহণযোগ্যতা পাবে যখন আমি নিজেকে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারব; এর আগে মোটেও নয়!


রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের কাছে এতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন কারণ তিনি নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। তাই,কারো কাছে দ্বীনের জ্ঞান ছুড়েঁ মারার আগে যাচাই করা উচিত আমার এই কথা তাদের ওপর কতটুকু প্রভাব পড়বে? আর যদি আপনি ভেবে থাকেন যে এভাবে এতসব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না, শুধু নিজে ঠিক থাকলেই হল বাকিরা জাহান্নামে যাক তবে নিশ্চিত জেনে রাখুন আপনার এসব ইবাদতের নূন্যতম গ্রহণযোগ্যতাও আল্লাহর কাছে নেই!


আমি ফাঁকা বুলি ছুড়েঁ দিচ্ছি না কিংবা গায়েবের খবর জানি এমনও নয়! হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি তোমরা অবশ্যই ভাল কাজে মানুষদেরকে নির্দেশ দিবে এবং অবশ্যই অন্যায় কাজে মানুষদেরকে নিষেধ করবে। যদি তা না কর তাহলে আল্লাহ তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। এরপর তোমরা তার নিকট প্রার্থনা করলেও তিনি তা কবুল করবেন না।" এছাড়াও রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"প্রত্যেক দায়িত্ববান ব্যক্তিকেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।"

আর নিঃসন্দেহে দায়িত্বের দিক দিয়ে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের ক্ষেত্রে আপনার পরিবার,আপনার সমাজ অধিক হকদার। এই হক আদায় না করে যদি কেবল অনলাইন দুনিয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তবে এটা আপনার পূরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার ব্যাপারে মোটেও সহায়ক হবে না।


অতএব,অন্যের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের সংশোধন যতটা জরুরী, রবের কাছে নিজের ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য পারিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও ততটাই জরুরী!

Monday, August 24, 2020

আপনি আমি দাইয়ুসের অন্তর্ভুক্ত নয় তো ?

সাবধান! আপনি "দাইয়ুস"-এর দলে পড়েন না তো? আপনি কেন আপনার বোনের জন্য, আপনার মায়ের জন্য, আপনার কন্যার জন্য, আপনার স্ত্রীর জন্য জাহান্নামী হবেন? বাংলাদেশে প্রায় আনুমানিক ৯০% পুরুষ দাইয়ুসের তালিকায়। তার মানে তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামি?

এখন আপনি বলবেন আপনি এই তথ্য কোথায় পেয়েছেন তথ্যসূত্র দেন। আমি বলবো সবকিছুর তথ্যসূত্র থাকেনা। যেগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয় না, সেগুলো সম্পর্কে আপনি একটু চিন্তা গবেষণা করে তথ্যগুলো বের করতে পারেন। এই তথ্যটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত গবেষণা থেকে।

আপনি আমি দাইয়ুসের অন্তর্ভুক্ত নয় তো ?

আপনি আপনার চোখ গুলো একটু ঘুরিয়ে দেখুন, অথবা নিজের দিকেই লক্ষ্য করে দেখুন। আপনার অধীনস্থ ব্যক্তিরা কতটুকু গুনাহ থেকে বিরত রয়েছে, আপনি তার বিরুদ্ধে কতটুকু ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দেখুন আপনার বোন, আপনার মা, আপনার স্ত্রী, আপনার কন্যা বেপর্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অবাধে তার ছেলে বন্ধুদের সাথে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে মেলামেশা করছে। আপনি একটু গভীরভাবে চিন্তা ফিকির করে দেখুন হাতেগোনা কয়েকজন ব্যতীত সবাইকে আপনার দাইয়ুস মনে হবে।

আমরা প্রত্যেকে জানি আল্লাহ তাআলা দাইয়ুসের জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে এটাও পরিষ্কার যে দাইয়ুস জাহান্নামে যাবে।

"দাইয়ুস" এমন ব্যক্তি যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। (মুসনাদে আহমাদ, নাসাঈ)..

ঐ ব্যক্তিকে "দাইয়ুস" বলে - যে তার স্ত্রীকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে অশ্লীল কাজের সুযোগ করে দেয়, বা তারা অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকলেও সে নিরব সম্মতি দিয়ে যায়, এবং তাদের শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয়।

দাইয়ূস ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "দাইয়ূস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (নাসাঈঃ ২৫৬২, আহমাদ, মিশকাতঃ ৩৬৫৫, সহীহুল জামেঃ ৩০৫২)।

আপনি জানেন আপনার বোন বেপর্দায় চলাফেরা করে।কলেজ ইউনিভার্সিটি'তে অবাধে মেলামেশা করে।আপনি এটাও জানেন তার অনেক ছেলে বন্ধু রয়েছে,এমনকি তার বয়ফ্রেন্ড আছে সেটাও আপনি জানেন কিন্তু আপনি এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। তাহলে এটা মেনে নিন আপনিও দেশের তালিকায় । আর আপনার জন্য আল্লাহ তা'আলা আপনার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন।

আপনি সমাজের একজন হাজ্বী-গাজী, দাড়ি-টুপিওয়ালা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী লোক ।, কিন্তু আপনার স্ত্রী ও মেয়েদেরকে দেখা যায় রাস্তা-ঘাটে বে-পর্দা হয়ে বের হতে।

কী কাজে আসবে আপনার এই পরহেজগারিতা! দাইয়ুস হয়ে আপনাকে যেতে হবে জাহান্নামে! কারন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "তিন প্রকার লোকদের জন্য আল্লাহপাক জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেনঃ (১) অনবরত মদ পানকারী, (২) পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি এবং (৩) "দাইয়ুস" (এমন ব্যক্তি যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়)।" (আহমাদ, সাহীউল জামে: ৩০৪৭)

আপনার স্ত্রী অনেক সুন্দর, আপনার স্ত্রী'র সুন্দর ছবি আপলোড করে সবাইকে দেখানোর জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। আর এতে আপনি গর্বিত বোধ করেন যে, দেখো আমার স্ত্রী কতো সুন্দরী!

আবার অনেক পরহেজগার পিতা/অভিভাবক তার পরিবারের অনেক অশ্লীল কাজ দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন! বা অনেকে ছোটো-খাটো ব্যাপার মনে করে এগুলোকে উড়িয়ে দেন!

আমরা এমনিতেই নিজেরা কত গুনাহের কাজে লিপ্ত তার উপর আমাদের মেয়ের জন্য,আমাদের বোনের জন্য, আমাদের স্ত্রীর জন্য আমরা জাহান্নামের টিকিট কাটছি ।

একটু ভেবে দেখুন আপনি কেন আপনার বোনের জন্য, আপনার মায়ের জন্য, আপনার স্ত্রীর জন্য, আপনার মেয়ের জন্য ,জাহান্নামী হবেন?

এখনো সময় আছে তাদেরকে বোঝান, তাদেরকে পর্দায় আবৃত করুন। পরিবারের কোন অশালীন কাজ দেখতে পেলে সেটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

আপুরা আপনাদেরকে বলবো, নিজেকে আল্ট্রামডার্ন করতে গিয়ে নিজে তো গুনাগার হচ্ছেন ই । তারপর আপনার ভাই, আপনার বাবা, আপনার স্বামীকে, জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আমি বলব নিজেকে সমস্ত গুনাহ থেকে বিরত রেখে পর্দায় আবৃত করে রাখুন।

সর্বোপরি আমি একটা কথাই বলতে চাই,গভীরভাবে চিন্তা ফিকির করে দেখুন আপনি আমি সবাই দাইয়ুস এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদেরকে এখনই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নয় তো আপনার আমার জায়গা হবে জাহান্নাম।

লেখক - মাহমুদ বিন নুর

সোসিয়াল মিডিয়াতে ছবি আপলোড না দিলে কি সম্মান চলে যাবে?

সুপরিচিত এক ছোট বোন কে একবার নসীহা স্বরুপ বলেছিলাম ফেইসবুকে এত ছবি দাও কেন ? সে জবাবে বললো, আপু আজকাল যুগটাই এমন । ছবি না দিলে আত্মীয়-স্বজন কানাঘুষা করে বলে, আমরা মনে হয় ভালো নাই । আর্থিকভাবে কষ্টে আছি । তাছাড়া প্রেম করে বিয়ে করেছি বলে ফ্যামিলির অনেকে কটু কথা বলে পিছনে পিছনে । তাই যে কোন অকেশানে বা জামাই নিয়ে বেড়াতে গেলে দু-চারটা ছবি তুলে ফেইসবুকে না দিলে লোকজনের মুখ বন্ধ করা যায়না । মনে করে আমরা বিবাহিত জীবনে অসুখী, কোন ঝামেলা হচ্ছে আমাদের মাঝে । লোকজনকে দেখানোর জন্য হলেও তাই ছবি দিতে হয় ।

সোসিয়াল মিডিয়াতে ছবি আপলোড না দিলে কি সম্মান চলে যাবে?


আরেক পরিচিত বোন সেও প্রচুর ছবি দেয় । জানলাম কাজিনরা সামাজিকভাবে অনেক ভালো পজিশনে আছে । এছাড়া হাসব্যান্ডের বন্ধুর বৌ-রাও নানান সময়ে এখানে সেখানে ঘুরতে গেলে চেক ইন দিয়ে ছবি আপলোড দিয়ে সবাইকে জানায় । তাদের সাথে কম্পিটিশন দিতে গিয়ে সেও প্রচুর চেকইন আর ছবি দেয় । সোশ্যাল স্ট্যাটাসটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে জাহির না করলে লোকজন কু-ধারণা করে । ভিতরটা যেমন তেমন হোক বাহির টা চোখ ধাঁধানো হওয়া চাই ।

আরেক বোন বললো, হাসব্যান্ড খুব ভালো ইনকাম করে । সেও উচ্চ শিক্ষিত এবং জব করে । বললাম তোমার তো প্রয়োজন নাই তাহলে শুধু শুধু জব করো কেনো । সে বললো তার বাবার দিকে ও মায়ের দিকের সব মেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত । সবাই জব করে । জব ছেড়ে দিলে সবাই কটু কথা শোনায়, ছি ছি করে । তাই জব করাটা তার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু না হলেও সামাজিক মর্যাদা টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও করতে হচ্ছে ।

এই যে এত এত উদাহরণ আমাদের চারপাশে সবকিছু একটা কনসেপ্টের উপর ভর করে আছে -

‘ লোকে কি বলবে ‘

শুধু মাত্র এই একটি ব্যপারে অতিমাত্রায় ফেকাস থাকার কারণে আমরা অনেক সময় গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ি । অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস করে দেই । অথচ আজ যাদের সুধারণা ও কুধারণা নিয়ে আমাদের এত মাথা ব্যথা তারাই একদিন আমাদের মৃত্যু সংবাদ পেলে বলে উঠে -


ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ....


কি অদ্ভুত না ! সারা জীবন যারা আপনাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার বিধান মানতে বাঁধা দেয়, বারবার সামাজিক মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহ দেয় এই তারাই কিনা সেদিন আপনার দুনিয়া ত্যাগের কথা শুনে শেষ পর্যন্ত এক আল্লাহ-কেই স্মরণ করে এবং জান্নাতে আপনার উচ্চ মর্যাদা নসীবের দুআ করে ।


কি বৈপরীত্য ! কতটা না আফসোসের !


অথচ মায়ের গর্ভে তিন স্তর বিশিষ্ট অন্ধকারে যিনি আপনাকে লালন পালন করেছেন, দুনিয়ার আলো বাতাসে যিনি আপনাকে অবিরত প্রতিপালন করেছেন এবং মৃত্যুর সাথে যে জীবনের সমাপ্তির মাধ্যমে আপনি পরজীবনে তাঁর সাক্ষাতে একাকী দাঁড়াবেন - আপনি সে পুরো জীবনেই তাঁকেই এড়িয়ে গিয়েছেন দ্বিধাহীন ভাবে ।

দুনিয়ার জীবনে শুধু ইন্না লিল্লাহ পড়ে বিদায় জানানো লোকদের পরওয়া না করে যদি লড়ে যেতে পারেন তো নিশ্চিত জানুন, আখিরাতের অনন্ত জীবনে দয়াময় সে প্রতিপালক আপনাকে স্বাগতম জানিয়ে বলবে -


“ হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে । অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে ...”

[ সুরা আল-ফযর, ২৭-৩০ ]


ছোট্ট একটা জীবন আমাদের ! এ জীবনটা পরম ভালোবাসায় এই আহবান শোনার জন্য একটু কষ্ট করে কি কাটিয়ে দেওয়া যায়না ? যায় কি ?

লেখাঃ নুসরাত জাহান

Saturday, June 13, 2020

জীবনে হতাশ হতে নেই

জীবনে হতাশ হতে নেই
একটু পড়ুন আর ভেবে দেখুন.....

১) যখন রক্ত সম্পর্কীয় কেউ আপনার সাথে প্রতারণা করবে ভেঙ্গে পড়বেন না। মনে রাখবেন, হযরত ইউসুফ (আঃ) আপন ভাইদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলেন।
.
২) যখন পিতামাতা আপনার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবেন, ভেঙ্গে পড়বেন না। মনে রাখবেন, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) নিজ পিতার দ্বারাই আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।
.
৩) যখন ঘোর বিপদে পতিত হয়ে বের হয়ে আসার আর কোন উপয়ান্তর খুঁজে না পান, আশার শেষ আলোটুকুও দেখতে না পান, ভেঙ্গে পড়বেন না। মনে রাখবেন, হযরত ইউনুস (আঃ ) মাছের পেটের অন্ধকার প্রকোষ্ট থেকেও উদ্ধার হয়েছিলেন।
.
৪) যখন আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হবে আর গুজবে দুনিয়া ছড়িয়ে যাবে, ভেঙ্গে পড়বেন না, এসবে কান দিবেন না। মনে রাখবেন, হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) এর বিরুদ্ধেও অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল।
.
৫) যখন আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন, ব্যাথায় কাঁতরাতে থাকবেন, ভেঙ্গে পড়বেন না। মনে রাখবেন, হযরত আইয়ুব (আঃ) আপনার চেয়েও হাজারগুন বেশী অসুস্থ থেকেও পুর্ণ সুস্থ হয়েছিলেন।
.
৬) যখন আপনি নির্জন/একাকীত্বে ভোগেন, ভেঙ্গে পড়বেন না। স্মরন করুন হযরত আদম (আঃ) কে, যাকে প্রথমে একাকী সঙ্গীবিহীন সৃষ্টি করা হয়েছিল।
.
৭) যখন কোন যুক্তি দিয়েই আপনি কোন একটি অবস্থার পেছনের কারণ খুঁজে পাবেন না, তখন কোন প্রশ্ন ব্যতীতই স্মরণ করুন হযরত নুহ (আঃ) এর কথা। যিনি অসময়ে কিস্তি তৈরি করে রেখেছিলেন।
.
৮) যখন আপনি পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশি সর্বোপরি সারা দুনিয়ার দৃষ্টিতে কৌতুকের পাত্রে পরিণত হবেন, ভেঙ্গে পড়বেন না। স্মরণ করুন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর কথা। যিনি তাঁর আপনজনের হাসি-তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

৯)যখন আপনি কারারুদ্ধ হয়ে বন্দী জীবন অতিবাহিত করবেন, বন্দী জীবনে দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করবেন, তখন মোটেও হতাশ হবেন না, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুল ﷺ ও সাড়ে ৩টি বছর শিয়াবে আবি তালিবে বন্দী ছিলেন।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রেরিত সকল পয়গম্বরগণকেই পরীক্ষায় ফেলেছিলেন এবং তাঁদেরকে উদ্ধার করেছিলেন। এজন্য যে, যাতে করে দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে পরবর্তী উন্মতেরা ধৈর্য্য ধারন করতে পারে, কষ্টসহিষ্ণু হতে পারে। ‘নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য ধারনকারীদের সাথেই আছেন’। [সুরা আনফালঃ ৪৬]

Wednesday, May 13, 2020

দুনিয়া আখিরাতে সফলতা পেতে মহামূল্যবান ২৫টি দোয়া

দুনিয়া আখিরাতে সফলতা পেতে মহামূল্যবান ২৫টি দোয়া
মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত নিয়েই কল্পনা আর জল্পনা করে। এর বাইরে আর কিছু নেই। এ দুটি জগতেই মানুষের চলচল কেমন হবে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল সা. কে শিখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে উম্মত উভয় জগতে সফলতা অর্জন করবে। ভালো থাকতে পারবে সুখে থাকতে পারবে। জীবন সাজিয়ে তুলতে মহা মূল্যবান কিছু দোয়া দেয়া হলো।

👉১- দুনিয়া আখিরাতের কল্যানের জন্য দোয়া-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ- “রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরতি হাসানাহ ওয়া কিনা আজাবান্নার”

অর্থ-‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে আগুনের-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর।’(সুরা বাকারা- আয়াত ২০১)

কাতাদা রা. আনাস রা.-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন দোয়া রাসুল সা. বেশি পড়তেন তখন আনাস রা. উপরে দোয়াটির কথা বলেছিলেন (মুসলিম)

👉২- নিজে এবং নিজের পরিবারের সবার জন্য বিনা হিসাবে বিনা আজাবে জান্নাতুল ফিরদাউস চাওয়ার দোয়া-
اللهم أدخلنا وأهلنا الجنة الفردوس بغير حساب ولا عذاب

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আদখিলনা ওয়া আহলানা আল জান্নাতাল ফিরদাউস বিগইরি হিসাবিও ওয়া লা আ’যাব।
অর্থঃ ইয়া আল্লাহ তুমি আমাকে আর আমার পরিবারের সবাইকে বিনা হিসাবে, বিনা আজাবে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করো।

👉৩- হেদায়াতের পর অন্তরের বক্রতা হতে মুক্তি চাওয়া-
رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ: রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা’দা ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহমাহ , ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্
অর্থঃ হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। (সুরা আল ইমরান – আয়াত ৮)

👉৪- দ্বীনের উপর অটল থাকার দুয়া:
اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلَى دِيْنِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বীনিক

অর্থ:- হে আল্লাহ! হে হৃদয়ের পরিবর্তন কারী! আপনি আমার হৃদয়-কে আপনার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন।
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আ’নহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বেশি বেশি বলতেন,
‘হে হৃদয়সমূহকে বিবর্তনকারী! তুমি আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখো।’

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার প্রতি এবং আপনি যা আনয়ন করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনি কি আমাদের ব্যাপারে ভয় করেন?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, হৃদয়সমূহ আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্যে দু’টি আঙ্গুলের মাঝে আছে। তিনি তা ইচ্ছামত বিবর্তন করে থাকেন।(তিরমিযী ২১৪০, ইবনে মাজাহ ৩৮৩৪, মিশকাত ১০২)

👉৫- আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও তাকওয়া চাওয়ার দোয়া-

‏ “‏اللهم إني أسألك الهدى، والتقى، والعفاف، والغنى‏”‏
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকাল হুদা ওয়াত-তুকা ওয়াল আ’ফাফা ওয়াল গিনা।

অর্থ: হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, সুস্থতা ও সম্পদ প্রার্থনা করছি।
(সুনানে আত-তিরমিযী: ৩৪৮৯)

👉৬- দুনিয়া আখিরাতের নিরাপত্তার যেই দুয়াটি রাসুল (সাঃ) কোন দিন সকাল সন্ধ্যায় পড়তে ছারতেন না-
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)কখনোই সকাল হলে ও সন্ধ্যা হলে নিচের এই কথাগুলি বলতে ছাড়তেন না (সর্বদা তিনি সকালে ও সন্ধ্যায় এগুলি বলতেন)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ استُرْ عَوْرَاتي، وآمِنْ رَوْعَاتي، اللَّهمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَينِ يَدَيَّ، ومِنْ خَلْفي، وَعن يَميني، وعن شِمالي، ومِن فَوْقِي، وأعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحتي

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আস্আলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়্যাতা ফিদ্ দুন্ইয়া- ওয়াল আ-খিরাহ। আল্লাহুম্মা, ইন্নী আস্আলুকাল ‘আফ্ওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়্যাতা ফী দীনী ওয়া দুন্ইয়াই-য়া, ওয়া আহলী ওয়া মালী। আল্লা-হুম্মাস- তুর ‘আউরা-তী ওয়া আ-মিন রাউ‘আ-তী। আল্লা-হুম্মাহ্ ফাযনী মিম বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া ‘আন শিমালী, ওয়া মিন ফাউক্বী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ইহকালে ও পরকালে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার ধর্ম ও পার্থিব জীবনে এবং পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার লজ্জাকর বিষয়সমূহ গোপন করে নাও এবং আমার ভীতিতে নিরাপত্তা দাও।

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ডান ও বাম এবং উপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কর। আর আমি তোমার মাহাত্মের অসীলায় আমার নিচে ভূমি ধসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(মুসনাদ আহমাদ ২/২৫, সুনানু ইবনি মাজাহ ২/১২৭৩, মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯৮, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৮১-৩৮৩, সহীহুত তারগীব ১/৩৪৩)

👉৭- আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত কখনো যেন হারিয়ে না যায়-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ ‏”‏ ‏.‏

উচ্চারণঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন যাওয়া-লি নি‘মাতিক, ওয়া তাহাও্‌উলি ‘আ-ফিয়াতিক, ওয়া ফুজা-য়াতি নিক্‌মাতিক, ওয়া জামী’ই সাখ-তিক”

অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নি‘আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমার দেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে।”(মুসলিম- ৬৮৩৭)

👉৮- মারাত্মক রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তির দোয়া
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَالْبَرَصِ، وَسَيِّئِ الْأَسْقَامِ»

উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল জুনুন, ওয়াল জুযাম, ওয়াল বারস, ওয়া সাইয়িল আসকম।
অর্থঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি পাগলামী, কুষ্ঠ রোগ, শ্বেতরোগ এবং অতি মন্দ রোগ ব্যাধি হতে।
(সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫৪৯৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)

👉৯- যে কোন অসুস্থ বা বিপদ্গ্রস্থ ব্যক্তিকে দেখে এই দোয়া পড়লে আপনি জীবনে কখনো ঐ অসুখে বা ঐ বিপদে পরবেন না-
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক কোন বিপদগ্রস্থ লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে
-الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً

উচ্চারনঃ আলহামদুলিল্লা হিল্লাযি আ-ফা-নী মিম্মাব তালা-কা বিহ, ওয়া ফাদদলানীয় আলা কাছিইরিম মিম্মান খলাকো তাফদিইলা
অর্থঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা আলার জন্য, তিনি যে বিপদে তোমাকে জড়িত করেছেন তা হতে আমাকে হিফাযাতে রেখেছেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন”।
সে তার মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত অনিষ্ট হতে হিফাযাতে থাকবে । তা যে কোন বিপদেই হোক না কেন।

(ইবনু মাজাহ, হাঃ ৩৮৯২, তিরমিজি ৩৪৩১- তাওহিদ পাবলিকেশন)।

👉১০- সকাল সন্ধায় ৩বার করে যেই দোয়া পড়লে আসমান জমিনের কোন কিছুই আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিন বার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবেনা।”

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণঃ বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আ ইস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম (৩ বার)

অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারেনা, তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।

(আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, নং ৩৮৬৯; আহমাদ, নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২। আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন- হিসনুল মুসলিম থেকে)

👉১১- সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া-
আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল (ফযরের পরে) ও সন্ধ্যায় (আসর বা মাগরিবের পরে) পড়ে আর সে ঐদিন মারা যায় ইন শা’ আল্লাহ সে জান্নাতে যাবে। এই গ্যারান্টি দিয়ে গেছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ)। (বুখারী, তিরমিযী ৫/৪৬৬)
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِر لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানি ওয়া আনা আ’বদুক, ওয়া আনা-আ’লা আহ’দিকা ওয়া-ওয়াদিকা মাস্তা-তোয়া’ত, আ’উযুবিকা মিন শাররি মা-ছানাআ’ত আবু-উ-লাকা বিনি’মাতিকা আলায়্যা ওয়া-আবু-উ-বি-যামবি, ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা-আনতা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমার বান্দা।
আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার সাথে যে ওয়াদা করেছি তা পূরণ করার চেষ্টায় রত আছি, আমি আমার কর্মের অনিষ্ট থেকে পানাহ্ চাই, আমি স্বীকার করছি আমার প্রতি তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা এবং আমি আরো স্বীকার করছি আমার পাপে আমি অপরাধী, অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নাই।

👉১২- দুই সিজদার মাঝে বৈঠকের দোয়াতে আপনার সব চাওয়া রয়েছে-
اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ (وَاجْبُرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ) وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ।
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অজবুরনী অরফা’নী অহ্‌দিনী ওয়া আ-ফিনী অরযুক্বনী।
অর্থ- হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, দয়া কর, আমার প্রয়োজন মিটাও, আমাকে উঁচু কর, পথ দেখাও, নিরাপত্তা দাও এবং জীবিকা দান কর। (আবূদাঊদ-৮৫০, তিরমিযী-২৮৪, ইবনে মাজাহ্‌-৮৯৮,হাকেম, মুস্তাদরাক)
ক্ষমা, দয়া, সমস্ত প্রয়োজন মিটানো, নিচুতা দূর করে উচু করা, সঠিক পথে পরিচালনা করা, নিরাপত্তা দেওয়া, জীবিকা দেওয়া এই সমস্ত কিছু প্রতি রাকাত সলাতের ১ সিজদা থেকে উঠে বসে আপনি আল্লাহর কাছে চেয়ে নিতে পারছেন আর সলাতটাই তো মুলত মুনাজাত, অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে সলাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের আশা সবচেয়ে বেশি থাকে, আপনি একবার চিন্তা করুন প্রতিদিন এত রাকাত সলাতে আমরা এত বার যদি আল্লাহর কাছে এই দুয়াটা করি আর কোন ১বারও যদি দয়াময় আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা কবুল করে নেন তাহলে দুনিয়া আখিরাতে আমাদের আর কোন অপ্রাপ্তি থাকবে কি?

👉১৩- উত্তম স্বামী/স্ত্রী সন্তান পাওয়ার দোয়া-
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণঃ রব্বানা-হাব্লানা-মিন্ আয্ওয়া-জ্বিনা-অ যুররিয়্যা-তিনা-কুররতা আ’ইয়ুনিঁও অজ্ব্‘আল্না-লিলমুত্তাকিনা ইমা-মা
অর্থঃ হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। (সূরা আল-ফুরকান- আয়াত ৭৪)

👉১৪- নিজে এবং নিজের বংশধরদের সালাত কায়েমকারী হওয়ার জন্য দোয়া-
ﺭَﺏِّ ﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻲ ﻣُﻘِﻴﻢَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻲ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻘَﺒَّﻞْ ﺩُﻋَﺎﺀ
উচ্চারণঃ “রব্বিজ আ’লনি মুকিমাছছলাতি ওয়ামিং যুররিইয়াতি রব্বানা-ওয়া তাকব্বাল দোয়া-
অর্থঃ “হে আমার রব! আমাকে তাদের একজন কর, যারা নিয়মিত সালাত কায়েম করে এবং আমার বংশধরদের মধ্যে থেকেও। হে আমার প্রভু তুমি আমার প্রার্থনা গ্রহণ কর।”(সুরা ইব্রাহিম- আয়াত ৪০)

👉১৫- জিবীত বা মৃত পিতামাতার জন্য দোয়া-
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণঃ রব্বীর হাম্হুমা-কামা-রব্বাইয়া-নী সগীইর-
অর্থ :হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন (সূরা আল-ইসরা- আয়াত ২৪)
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণঃ রব্বানাগফিরলি অলিওয়া লিদাইয়্যা অ- লিলমুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসা-ব্।
অর্থ: হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা ইবরাহিম- আয়াত ৪১)
এখানে পিতামাতার পাশাপাশি অন্য মুমিনদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে আর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাহলে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি করে সওয়াব আল্লাহ তার আমল নামায় লিখে দেবেন (ত্বাবরানী, শাইখ আলবানী হাদীছটিকে হাসান সহিহ বলেছেন, সহীহুল জামে হা/৬০২৬)
হাদিসটা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখুন, বর্তমান পৃথিবীতেই ২০০ কোটির উপরে মুসলিম রয়েছে আর আদম (আঃ) থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিমের সংখ্যা কত হবে সেটা ১মাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা ছাড়া আর কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয় অথচ তাদের জন্য ১ বার ক্ষমা চাইলেই আপনি সেই সংখ্যক নেকী পেয়ে যাবেন যার পরিমাণ কোন মানুষের কল্পনায়ও আসবে না।
ইসলামের সৌন্দর্য দেখুন, ইসলাম শুধু নিজের কথা চিন্তা করতে বলে না বরং অন্যদের কল্লান কামনা, তাদের প্রতি বিদ্বেষ না রাখা, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এটাও শরীয়তে বিরাট ইবাদত হিসাবে বিবেচিত আর সেই কারনেই দেখা যাচ্ছে মুসলিম ভাই বোনদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াতে তিনি এমন পরিমাণ সওয়াব নির্ধারণ করেছেন যেটা আর কোথাও পাওয়া যায় না।

👉১৬- যে দোয়া ১ বার পাঠ করলে রাত দিন অনবরত জিকিরের চেয়েও বেশি সওয়াব পাবেন-
আবূ উমামাহ আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বসা অবস্থায় আমার ঠোঁট নাড়াচ্ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আসলেন। তিনি সা আমাকে বললেন: তোমার ঠোঁট নাড়াচ্ছো কেন? আমি বললাম, আল্লাহর যিকির করছি; হে আল্লাহর রাসূ্ল!
তিনি সা. বললেন আমি কি তোমাকে এমন কিছু জানাবো না, যখন তুমি তা বলবে তোমার রাত-দিনের অনবরত যিকির পাঠও এর সওয়াব পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না? আমি বললাম, হাঁ, বলুন। রাসুল (সাঃ) তখন এই দোয়া শিখিয়ে দিলেন
اَلْحَمْدُ لِلَّه عَدَدَ مَا أحْصَى كِتَابُهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّه عَدَدَ مَا فِي كِتَابِهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّه عَدَدَ مَا أحْصَى خَلْقُهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّه عَلَي ماَ فِي خَلْقِهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّه مِلْءَ سَمَاوَاتِهِ وَأرْضِهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّه عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ وَالْحَمْدُ لِلَّه مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ
سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا أحْصَى كِتَابُهُ، وَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا فِي كِتَابِهِ، وَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا أحْصَى خَلْقُهُ، وَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَلَي ماَ فِي خَلْقِهِ، وَ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ سَمَاوَاتِهِ وَأرْضِهِ، وَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ وَ سُبْحَانَ اللَّهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ
اَللهَ أَكْبَرعَدَدَ مَا أحْصَى كِتَابُهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا فِي كِتَابِهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا أحْصَى خَلْقُهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَلَي ماَ فِي خَلْقِهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِلْءَ سَمَاوَاتِهِ وَأرْضِهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ
উচ্চারনঃ “আলহামদুলিল্লাহি আদাদা মা আহস্ কিতাবুহ্, ওয়াল হামদুলিল্লাহি আদাদা মা ফী কিতাবিহ্, ওয়াল হামদুলিল্লাহি আদাদা মা আহস্ খলকুহ্, ওয়াল হামদুলিল্লাহি আ’লা মা ফী খলক্বিহ্, ওয়াল হামদুলিল্লাহি মিলআ সামাওয়াতিহি ওয়া আরদিহ্, ওয়াল হামদুলিল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই-ই, ওয়াল হামদুলিল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই-ই
“সুবহানাল্লহী আদাদা মা আহস্ কিতাবুহ্, ওয়া সুবহানাল্লহী আদাদা মা ফী কিতাবিহ্, ওয়া সুবহানাল্লহী আদাদা মা আহস্ খলকুহ্, ওয়া সুবহানাল্লহী আলা মা ফী খলক্বিহ্, ওয়া সুবহানাল্লহী মিলআ সামাওয়াতিহি ওয়া আরদিহ্, ওয়া সুবহানাল্লহী আদাদা কুল্লি শাই-ই, ওয়া সুবহানাল্লহী মিলআ কুল্লি শাই-ই,
“আল্ল-হু আকবার আদাদা মা আহস্ কিতাবুহ্, অল্ল-হু আকবার আদাদা মা ফী কিতাবিহ্, অল্ল-হু আকবার আদাদা মা আহস্ খলকুহ্, অল্ল-হু আকবার আলা মা ফী খলক্বিহ্, অল্ল-হু আকবার মিলআ সামাওয়াতিহি ওয়া আরদিহ্, অল্ল-হু আকবার আদাদা কুল্লি শাই-ই, অল্ল-হু আকবার মিলআ কুল্লি শাই-ই
অর্থঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য তার কিতাব যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য তার কিতাব যা গণনা করেছে তা পূর্ণ করে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য তার সৃষ্টি যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য তার সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে তা পূর্ণ করে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য তার আসমান ও জমিন পূর্ণ করে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য সকল কিছুর সংখ্যার সমপরিমাণ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য সব কিছুর উপর।
“আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার কিতাব যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার কিতাব যা গণনা করেছে তা পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টি যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে তা পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার আসমান ও জমিন পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল কিছুর সংখ্যার সমপরিমাণ, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সব কিছুর উপর।
“আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি তার কিতাব যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি তার কিতাব যা গণনা করেছে তা পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি তার সৃষ্টি যা গণনা করেছে সেই পরিমাণ, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি তার সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে তা পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি তার আসমান ও জমিন পূর্ণ করে, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি সকল কিছুর সংখ্যার সমপরিমাণ, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করছি সব কিছুর উপর।
(ত্ববারানী কাবীর হা/৭৫৮৭, ৮০৪৭, দুটি সানাদে হাদিসের শব্দাবলী তার। আলবানি হাদিসটিকে সহিহ লিগাইরিহি বলেছেন সহীহ্ আত তারগিব হা/১৫৭৫। আবু উমামাহ হতে হাদিসটা কিছুটা ভিন্ন শব্দে বর্ণীত হয়েছে আহমাদ, ইবনু আবুদ দুনিয়া, নাসায়ি, ইবনু খুজাইমা, ইবনু হিব্বান এবং হাকিমে।
ইমাম হাকিম বলেনঃ বুখারি ও মুসলিমের শর্তে সহিহ। আলবানি বলেছেন সহিহ, সহিহ আত তারগিব হা/১৫৭৫- আহসানউল্লাহ বিন সানাউল্লাহ রচিত- কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ফাজায়েলে আমাল বইয়ের ৭৮২ নাম্বার হাদিস)
প্রতিদিন যে কোন সময় পড়তে পারেন, ১বার ই পড়তে হবে এমন নয়, যতবার খুশী পড়তে পারেন তবে দিনে কমপক্ষে ১ বারও যদি এটা পড়েন তবে সারাদিন অনবরত জিকিরের সওয়াব পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ তবে দিনে রাতে অন্য যেগুলো সুন্নাতি জিকির আজকার রয়েছে সেগুলো আবার ছেড়ে দিবেন না যেন, জান্নাত পাওয়ার জন্য যতবেশি পাথেয় যোগাড় করতে পারব ততই আমাদের জন্য ভালো সুতরাং প্রতিদিন ১বার অন্তত পড়ার চেষ্টা করুন। প্রথমে একটু কঠিন মনে হতে পারে সেখেত্রে দেখে দেখে পড়তে পারেন কয়েক দিনের মধ্যেই মুখস্ত হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।

👉১৭- শিরক থেকে বাঁচার দো’য়াঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ».
উচ্চারনঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া ‘আনা আ‘লামু ওয়া আস্তাগফিরুকা লিমা লা আ‘লাম
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি জ্ঞাতসারে আপনার সাথে শির্ক করা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই এবং অজ্ঞতাসারে (শির্ক) হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা চাই।”
(আহমাদ ৪/৪০৩, নং ১৯৬০৬; ইমাম বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৭১৬। আরও দেখুন, সহীহ আল জামে ৩/২৩৩; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আলবানী, ১/১৯। হিসনুল মুসলিম)

👉১৮- শিরক বাদে বাকি সব পাপ থেকে মুক্তির দোয়াঃ
হযরত আব্দুর রহমান বিন গানম (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামায থেকে ফিরে বসা ও পা মুড়ার পূর্বে (অর্থাৎ যেভাবে বসে সলাত শেষ করেছে ওভাবে বসেই) নিম্নোক্ত দোয়াটি ১০ বার পাঠ করবে,
«لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»
উচ্চারনঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ইয়ুহ্‌য়ী ওয়াইয়ূমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বদীর।
অর্থ: “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তাঁর। তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান”।
আল্লাহ্‌ তার আমলনামায় প্রত্যেকবারের বিনিময়ে ১০টি নেকি লিপিবদ্ধ করেন, ১০টি গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত করেন, প্রত্যেক অপ্রীতিকর বিষয় এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে (ঐ যিকির) রক্ষামন্ত্র হয়, নিশ্চিতভাবে শির্ক ব্যতীত তার অন্যান্য পাপ ক্ষমার্হ হয়।
আর সে হয় আমল করার দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, তবে সেই ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে যে তার থেকেও উত্তম যিকির পাঠ করবে”(আহমাদ,সহীহ তারগীব-হাদিস ৪৭২)

👉১৯- সকল প্রকার অনিষ্ঠ থেকে বাচ্চাদের হেফাজতের জন্য সকাল সন্ধায় ঝাড়ফুঁকের দোয়া-
ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান এবং হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য নিম্নোক্ত দু‘আ
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারনঃ আঊযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুললি শয়ত্বানিও ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল লাম্মাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি।
পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)- ইসমাঈল ও ইসহাক (আঃ)-এর জন্য দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন। (বুখারিঃ ৩৩৭১,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৯)

👉২০- রোগ মুক্তির অত্যান্ত কার্যকরী দোয়া-
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا ‏”‏‏
উচ্চারনঃ ‘‘আযহিবিল বা’স, রববান্না-স, ইশফি আন্তাশ শা-ফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আল লা য়ুগা-দিরু সাক্বামা।’’
অর্থঃ কষ্ট দূর করে দাও। হে মানুষের রব, আরোগ্য দান কর, তুমিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান কর যা সামান্যতম রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে। (বুখারি- ৫৬৭৫)
যে কোন রোগে এই দুয়া পড়ুন, নিজের জন্য বা অন্যের জন্য, এমনকি এটা পড়ে শরিরে ফু নিতে পারেন বা অসুস্থ ব্যক্তিকে দিতে পারেন কিংবা এটা পরে পানিতে ফু দিয়ে খেতেও পারেন বা শরিরে ছিটাতেও পারেন, যে কোন রোগের চিকিতসায় এটা অত্যান্ত কার্যকর দোয়া

👉২১- যে কোন দোয়া কবুল হওয়ার জন্য ইসমে আ‘যম’ সহ দো‘আ করলে সেই দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়-
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারনঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নাকা আনতাল্লা-হুল আহাদুছ ছামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ’
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করছি; কেননা তুমি আল্লাহ। তুমি একক ও মুখাপেক্ষীহীন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি ও যিনি কারো থেকে জন্মিত নন এবং যাঁর সমতুল্য কেউ নেই)।
জনৈক ব্যক্তিকে এটা পড়তে শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে তাঁর ‘ইসমে আযম’ (মহান নাম) সহ দো‘আ করেছে। যে ব্যক্তি উক্ত নাম সহকারে প্রার্থনা করবে, তাকে তা দেওয়া হবে। আর যখন এর মাধ্যমে দো‘আ করা হবে, তা কবুল করা হবে’।
(ইবনু মাজাহ হা/৩৮৫৭ ‘দো‘আ’ অধ্যায়-৩৪, ‘আল্লাহর ইসমে আযম’ অনুচ্ছেদ-৯; আবুদাঊদ হা/১৪৯৩; ‘আওনুল মা‘বূদ হা/১৪৮২-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)
অর্থাৎ এই দোয়া পড়ার পর নিজের চাহিদা আল্লাহর কাছে জানাবে এতে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা তার দোয়া কবুল করে নিবেন ইন শা আল্লাহ।

👉২২- মৃত্যুর আগে তাওবা নসীব হওয়ার জন্য দুয়া:
اللَّهُمَّ أَرْزُقْنِيْ تَوْبَةً نَصُوحَةً قَبْلَ الْمَوتِ
উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মারযুক্বনি তওবাতান্নাসু-হাহ, ক্ববলাল মাউত। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মৃত্যুর পূর্বে খাটি দিলে তওবা করার সুযোগ করে দিবেন।

👉২৩- ভাল মৃত্যু লাভের দুয়া:
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ حُسْنَ الْخَاتِمَةِ
উচ্চারনঃ আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খ-তিমাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম মৃত্যু চাই।

👉২৪- আল্লাহর কাছে ধৈর্য ও মুসলিম হিসাবে মৃত্যু চাওয়ার দোয়া-
رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারনঃ রব্বানা-আফরিগ ‘আলাইনা-সবরওঁ ওয়া তাওয়াফফানা-মুছলিমীন
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসাবে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন।’ (সুরা আল-আরাফ- আয়াত ১২৬)

👉২৫- মৃত্যুর পর আল্লাহ যেন আমাদের নেক্কার বান্দাদের সাথে মিলিয়ে দেন সেই মর্মে দোয়া-
فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِىِّۦ فِى الدُّنْيَا وَالْءَاخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِى مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِى بِالصّٰلِحِينَ
উচ্চারনঃ ফাতিরিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, আনতা ওয়ালিই ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরহ, তাওয়াফফানী মুসলিমাওঁ ওয়া আলহিক্বনী বিসসলিহীন।
অর্থ: হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন’। (সুরা ইউসুফ- আয়াত ১০১)

Saturday, April 11, 2020

প্রেম কি হারাম ?

প্রেম কি হারাম ?
ক. "তোমাদের রিলেশান টা হারাম। তুমি কি জানো না বিয়ের পূর্ব প্রেম হারাম?"

"না তো,কখনো শুনি নি!"

.

খ. "আপু! এমন ইচ্ছে ছিলো না,কিন্তু এক্সিডেন্টলি….আমরা যদি বিয়ে করে নেই, তবু এই ব্যাভিচারের গুনাহের ভাগ কি বাবা মা পাবে?"

.

প্রথমজন ছিলো আমার ক্লাসমেট যে জানতোই না বিয়ের পূর্ব প্রেম হারাম! দ্বিতীয়জন আমার হারাম সম্পর্ক নিয়ে ফেসবুকে দেয়া পোস্ট পড়ে ইনবক্সে প্রশ্নটা করেছিলেন।

.

আমি প্রথমে এই হারাম প্রেম আপনাকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বা করতে পারে তা নিয়ে বলবো না,পরে বলবো। আগে বলি এটা কিভাবে আপনার কিছু দাবীকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বা যাকে/যাদের খুব ভালোবাসেন বলে দাবী করেন সে দাবীটা কতটুকু নড়বড়ে!

.

১. আপনি নিশ্চই দাবী করেন আপনি আপনার বাবা /ভাই কে ভালোবাসেন? এ দাবী মিথ্যে। দাইয়্যুস বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যার অধিনস্থ নারীরা (যেমন কন্যা,স্ত্রী,বোন) বেপর্দায় চলাফেরা করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন, “তিনজন আছেন যাদের দিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামাতের দিন নজর দেবেন না। যে
পিতামাতার অবাধ্য, যে নারী বেশভূষায় পুরুষের অনুকরণ করে এবং দাইয়্যুস ব্যক্তি।” [সুনান আন নাসাঈ,হাদিস সাহীহ]

.

ইমাম আহমাদের বর্ণনাকৃত অন্য আরেকটি সাহীহ হাদীসে ‘আল্লাহ নজর দেবেন না’ এর সাথে এসেছে 'দাইয়্যুস' ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [মুসনাদে আহমাদ]।

এটা সম্ভব নয় যে আপনি পর্দা মেইনটেইন করবেন আবার প্রেমও করবেন! যখন আপনি প্রেম করছেন,তখন নিঃসন্দেহে আপনি একজন বেপর্দা নারী বলে গণ্য হবেন,বোরকা নিকাব হিজাব যত যাই কিছু পরেন না কেন!

পর্দা কেবল মাত্র পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়। গাইরে মাহরামের সাথে প্রেমালাপ,ঘুরতে যাওয়া পর্দা বহির্ভূত কাজ। আর যখন আপনি বেপর্দা মেয়েদের দলভূক্ত হচ্ছেন,তখন আপনার পিতা/ভাই হচ্ছেন দাইয়্যুস "আপনার জন্য"।

তাদের প্রতি আপনার ভালোবাসার দাবী মিথ্যে নয় কি? ভালোবাসলে কাউকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়া যায়? আপনার বাবার একটি আঙ্গুল মোমের আগুনে দু'মিনিট ধরে পুড়ছে-ইমেজিন করুন তো কেমন লাগে?

.

২. যিনা/ব্যাভিচার শুধু লজ্জাস্থানের দ্বারাই যে হয় তা নয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দুই চক্ষুর যিনা হচ্ছে- দেখা, দুই কানের যিনা হচ্ছে- শোনা, জিহ্বার যিনা হচ্ছে- কথা, হাতের যিনা হচ্ছে- ধরা, পায়ের যিনা হচ্ছে- হাঁটা, অন্তর কামনা-বাসনা করে; আর লজ্জাস্থান সেটাকে বাস্তবায়ন করে অথবা করে না।”

( সহিহ বুখারী ও মুসলিম)।

তো আপনি যখন রোমান্টিক কথা বলছেন,জাস্ট হাতটা ধরে হাঁটছেন,আর ভাবছেন "আমি পবিত্র আমিতো যিনা করিনি"--তখন কিন্তু এই হাদীস আপনাকে ব্যাভিচারী বলছে! কেননা হাত ধরলেও হাতের যিনা, কথা বললে মুখের যিনা! আর ফাইনালি সব যিনা মিলে অজান্তেই আপনাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় যাকে কিনা পরে বলেন " এক্সিডেন্টলি...."

.

আপনি যখন এমন যিনায় হাবুডুবু খাচ্ছেন, তখন জানেন কি তা আপনার পিতামাতাকে কিভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সন্তান বিবাহ উপযোগী হওয়ার পর যদি পিতা-মাতা বিবাহের ব্যবস্থা না করে তবে সন্তান ব্যভিচারে লিপ্ত হলে সন্তানের সঙ্গে পিতা-মাতাও পাপী হবে (মিশকাত)।’ এটা সত্যি যে পিতামাতারা আজকাল তাড়াতাড়ি বিয়ে দেয়ার কথা ভাবতেই পারেন না! আবার এমনও দেখি পিতামাতা বিয়ে দিতে চায় কিন্তু সন্তান টালবাহানা করে বিভিন্ন অযুহাতে।

কারণ? বয়ফ্রেন্ডের জব হয় নাইতো এখনো! অথবা আরও এসটাবলিশ না হলে প্রেমিকার বাবা কন্যাদানে আপত্তি করবেন। আরও সময় দরকার এসটাবলিশ হওয়ার জন্য! বিয়ে করা সম্ভব না হলে রোজা রাখতে বলা হয়েছে,হারামে আরাম করতে কিন্তু বলা হয়নি! আপনার ব্যাভিচারের জন্য যদি পিতামাতাকেও লাঞ্চিত করা হয়,কেমন লাগবে তখন? আপনি সত্যি তাদের ভালোবাসেন তো?

.

৩. আপনি নিশ্চই দাবী করেন আপনি একজন সভ্য, সামাজিক মানুষ? মিথ্যে দাবী! "আপনার বাবার সাথে আপনার পাশের বাড়ির আন্টির ( যিনি কিনা দুই বাচ্চার মা) প্রেমলীলা চলছে"-কথাটা শুনতে কেমন লাগলো? জঘন্য না? কোন সভ্য,সামাজিকবোধ সম্পন্ন মানুষ কি এমন কাজ করতে পারে? অন্যের হক নষ্ট করতে পারে?

কিন্তু আপনি সেটাই করছেন। হয়তো আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে বিয়েটা আল্লাহ্ দিবেনই না! ভবিষ্যতে সে হয়তো হবে অন্যের স্বামী/স্ত্রী,কিছু বাচ্চার মা/বাবা। তো আপনি কি করছেন? অন্যের (ভবিষ্যতের) বউ/স্বামীর সাথে প্রেম করছেন! আপনি কি করে সিওর হলেন আল্লাহ্ আপনাদের বিয়ে দিবেন?

কেনো চুরি করছেন অন্যের হক্ব? যে ভালোবাসায়, রোম্যান্সে,সময়ে শুধু মাত্রই তার স্ত্রীর/স্বামীর হক্ব আছে তা আপনি ভোগ করছেন! এটা সভ্য, বিবেকবান, রুচিশীল মানুষের কাজ হতে পারে?

.

৪. আপনি নিশ্চই দাবী করেন যে আপনি এই দেশ কে ভালোবাসেন? মিথ্যে দাবী! "কাছের আসার নোংরা গল্প" গুলো যখন প্রকাশ্যে সার্ভ করা হয়,যখন ডাস্টবিনে ঠাঁই হয় নবজাতকদের,রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস "in an open relationship with…" ওয়ালা ফেবু ইউজার যখন অহরহ, তখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে যিনা ব্যাভিচার কি পরিমাণ বেড়ে গেছে! এগুলো এখন ফ্যাশন।

হাদীসে উল্লেখিত যেসকল নাফরমানির কারণে ভুমিকম্পসহ প্রাকৃতির দূর্যোগ বেড়ে যায় বলা হয়েছে-তার মধ্যে একটি হলো যিনা! আর এই শাখায় আপনি কি সুন্দর অবদান রেখে চলেছেন। আল্লাহ না করুন এই নাফরমানির জন্য যদি আজাব আসে? প্রাকৃতিক দূর্যোগ বেড়ে যায়? আ'দ,সামুদ জাতিকে কি আমরা ভুলে গেছি? সেই রব ই তো আমাদের রব! ভয় করে না?

আচ্ছা ধরুন বিজ্ঞানীরা বললো অমুক অমুক কাজ করলে দেশের এই এই ক্ষতি হবে। আপনি দেশপ্রেমিক হিসেবে কাজগুলো করবেন নাকি বিরত থাকবেন? তাহলে দেশের উপর আল্লাহ পাকের আজাব আসতে পারে,এমন হারাম জঘন্য কাজগুলো কেন করছেন? আপনি দেশকে সত্যি ভালোবাসেন তো?

৫. "তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী

মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী

নারী,যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে,

কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে

ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে,

তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(সূরা মায়িদা,আয়াত -০৫)।

এই আয়াত স্পষ্ট করে দিলো শুধুমাত্র বিয়ের পরই প্রেম করা যাবে তার আগে না! ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুনতো নিজের মর্যাদাকে কতো নিচে নামিয়ে ফেলছেন! বিয়ের পবিত্র বন্ধন ছাড়াই কোন পুরুষকে বিনোদিত করা কোন শ্রেণীর মেয়েদের কাজ নিশ্চই আপনি জানেন। আপনি কি তাদের সাথে নিজের সাদৃশ্য স্থাপন করছেন না?

আপনি কি বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ? আমাদের তো হওয়ার কথা জান্নাতের সর্দার্নী ফাতিমা রাদ্বীয়াল্লাহু তা'আলা আনহার মতো যিনি মুমূর্ষ অবস্থায়ও চিন্তিত ছিলেন এ নিয়ে যে তার লাশের সাইজ কেউ দেখে কিনা! রাতের আঁধারে তাকে কবর দেয়া হয়!।।

তাঁরা লাশের পর্দা নিয়ে ভাবতেন,কবরের নিষ্প্রাণ মানুষকে সংকোচ করতেন। আর আমরা রুহ ওয়ালা জলজ্যান্ত পর পুরুষ গুলোর কাছে, বয়ফ্রেন্ডের কাছে নিজেকে সহজলভ্য করে দিচ্ছি! আমরা জান্নাতী নারীদের অনুকরণ না করে নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের অনুকরণ করছি। এই করতে কি দুনিয়ায় আসা? এই আমল নিয়ে কবরে যাবো? সাবধান হই এই সর্বনাশা পাপ হতে। আত্মসম্মানবোধকে জাগ্রত করুন। নিজেকে সহজলভ্য নয় বরং অমূল্য করে গড়ে তুলুন! ভুলে যাবেন না আপনি কার উম্মাহ! একজন মুসলিমাহ আপনি।

.

৬. পিতামাতার অবাধ্য সন্তানের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ নজর ই দিবেন না।

আপনার প্যারেন্টস কখনোই এই হারাম প্রেম এ্যালাউ করবেন না। তার মানে নি:সন্দেহে আপনি তাদের অবাধ্যে চলছেন। হাদীসের ভাষ্যমতে আপনি ধ্বংসের দিকে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছেন!

.

৬. আপনি জানেন কি আল্লাহ্'র চেয়ে বেশি কাউকে ভালোবাসা শির্ক? ইভেন বাবা মা কেও আল্লাহ্'র চেয়ে বেশি ভালোবাসা যাবে না!

.

আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হ'ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর। [ সুরা বাকারা ২:১৬৫ ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা সর্বাধিক প্রিয় পাত্র হই।(বুখারী ,ঈমান অধ্যায়)

তার মানে দাড়ায় সর্বাধিক ভালোবাসতে হবে আল্লাহ্ কে,নয়তো শির্ক হবে। আর এরপর ভালোবাসতে হবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে,নয়তো ঈমানদার হওয়াই যাবে না। তো আল্লাহ্'র রুল কে অমান্য করে,রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ না করে কি তাঁদের সব চেয়ে বেশি ভালোবাসেন দাবী করতে চান? অবাস্তব কথা।

বলো, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সুরা আলি-ইমরান আয়াত ৩১)

অনুসরণ করছেন তো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে? যিনি কিনা বেগানা নারীর সাথে হাত পর্যন্ত মিলান নাই! আর আপনি? ভালোবাসেন তো সত্যি আল্লাহ কে যেভাবে ভালোবাসার কথা? আয়াতটি আবার পড়ুন তো!

.

আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা'বুদ নেই। তবে যারা মিথ্যা মা'বুদের উপাসনা করে তারাও কিন্তু তাদের মিথ্যা মা'বুদকে অনেএএক ভালোবাসে,ওটা যে একরকম ভালোবাসা তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এ ভালোবাসা তো মূল্যহীন! যে ভালোবাসা কিনা সত্য মা'বুদের জন্য নয়!

মা বাবা,দেশ, হারাম প্রেমিক/প্রেমিকা এবং নিজের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা আছে,সেটাও এক প্রকার ভালোবাসা। তবে মিথ্যা মা'বুদের উপাসকদের মতোই মূল্যহীন সে ভালোবাসা। যে ভালোবাসা ধ্বংস ডেকে আনে,যে ভালোবাসা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়,যে ভালোবাসায় থাকে রবের নাফরমানী,সেটা আবার কেমন ভালোবাসা? আর সেই ঠুনকো ভালোবাসাই বুঝি সেলিব্রেট করেন ১৪ই ফেব্রুয়ারী? বেহায়াপনার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাওয়ার এক স্পেশাল ডে। জেনে রাখুন হে মুসলিম মুসলিমাহ! এই দিবস পালন হারাম!

.

ফিরে আসুন,হারাম ছেড়ে ফিরে আসুন ইসলামের প্রশান্তিময় ছায়াতলে,হাতে সময় থাকতেই। আল্লাহ কে ভয় করুন যার কাছে আমাদের নিশ্চিত প্রত্যাবর্তন!

"আর তোমরা (নিজেদের) পাথেয় সংগ্রহ করে নাও; বস্তুত: নিশ্চিত উতকৃষ্ট পাথেয় হচ্ছে আল্লাহ্ভীতি এবং হে জ্ঞানবানগণ! তোমরা আমাকে ভয় করো।"

(সূরা বাক্বারাহ্,আয়াত ১৯৭)

.

"এ কেমন ভালোবাসা?"

আমাতুর রহমান

Tuesday, March 31, 2020

আযর কি হযরত ইবরাহীমের (আঃ) জন্মদাতা পিতা ছিলেন ?

আযর কি হযরত ইবরাহীমের (আঃ) জন্মদাতা পিতা ছিলেন ?
সূরা তাওবার ১১৫ নং আয়াত এবং সূরা মুমতাহিনার ১৪ নং আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে আযর হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর পিতৃস্থানীয় ছিল এবং হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাকে পিতা বলে সম্বোধন করতেন ।

কিন্ত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং সকল নবী-রাসূলগনের জন্মদাতা পিতা-মাতা এবং তাদের পূর্বপুরুষগণ তাওহীদবাদী ও এক খোদায় বিশ্বাসী ছিলেন ।
এতৎসংক্রান্ত সকল বার ইমামীয়া শীয়া আলেমের ঐকমত্যের (ইজমা) সাথে মূর্তিপূজক আযরের পক্ষে হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতা হওয়া মোটেও খাপ খায় না ।

প্রসিদ্ধ আলেম শেখ মুফিদ (রহঃ) তাঁর ‘আওয়ায়েলুল মাকালাত’ নামক গ্রন্থে উপরিউক্ত বিষয়টিতে যে ইমামীয়া শিয়া আলেমদের ইজমা রয়েছে তা লিখেছেন ।
এমনকি অনেক সুন্নী আলেমও এ ব্যাপারে তাঁদের সাথে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন ।

এমতাবস্থায় উপরিউক্ত আয়াতসমূহের বাহ্যিক অর্থের অবস্থাই বা কি হবে এবং কিভাবে এ সমস্যাটি সমাধান করতে হবে ?

সম্মানীয় পাঠক ,
আপনার গভীর মনযোগ আশা করছি ।

অনেক মুফাসসির বলেছেন যে , أب (আব) শব্দটি যদিও সাধারণত আরবী ভাষায় ‘পিতা’র ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় , তবুও এ শব্দটির ব্যবহার কেবল ‘পিতা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এবং কখনও কখনও আরবী ভাষা ও পবিত্র কোরআনের পরিভাষায় ‘চাচা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয় ।
যেমন নীচের আয়াতে أب শব্দটি ‘চাচা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে -
)إذ قال لبنيه ما تعبدون من بعدي قالوا نعبد إلهك و إله ءابائك إبراهيم و إسماعيل و إسحاق إلها واحدا و نحن له مسلمون(
“ --- যখন ইয়াকুব নিজ সন্তানদেরকে বললেন , আমার পরে তোমরা কার উপাসনা করবে ? তখন তারা বলেছিল , আমরা আপনার ও আপনার পূর্বপুরুষগণ ইবরাহীম , ইসমাঈল ও ইসহাকের এক-অদ্বিতীয় উপাস্যের উপাসনা করব । আর আমরা তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণকারী ।”
সূরা - বাকারা / ১৩২ ।

নিঃসন্দেহে হযরত ইসমাঈল (আঃ) হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর চাচা ছিলেন । তাঁর পিতা ছিলেন না । কারণ হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইসহাক (আঃ) এর সন্তান । আর হযরত ইসহাক (আঃ) হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর ভাই ছিলেন ।
এতদসত্ত্বেও হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানগণ হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর চাচা হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে পিতা বলেছেন ।

অর্থাৎ তারা أب শব্দটি তাঁর (ইসমাঈল) ওপরও প্রয়োগ করেছেন ।
এ দু’ধরনের ব্যবহার সত্ত্বেও এ সম্ভাবনা থেকে যায় যে , আযরকে হেদায়েত করা সংক্রান্ত যে সব আয়াত রয়েছে সেগুলোতে উল্লিখিত أب শব্দটির কাঙ্ক্ষিত অর্থ হচ্ছে চাচা , বিশেষ করে শেখ মুফীদ যে ইজমার কথা বর্ণনা করেছেন তা থেকে ।
আর আযরকে হযরত ইবরাহীম (আঃ) পিতা বলেছিলেন তা সম্ভবত এ কারণে যে , হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব দীর্ঘদিন আযরের ওপর ছিল ।
এ কারণেই হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাকে পিতার ন্যায় সম্মান প্রদর্শন করতেন ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
এবারে দেখুন --
কোরআন আযরকে হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর জন্মদাতা পিতা বলে নাই ----
হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে আযরের আত্মীয়তার সম্পর্ক সংক্রান্ত পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করার জন্য নিম্নোক্ত দু’টি আয়াতের ব্যাখ্যার দিকে আমরা সম্মানীত পাঠকবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করব --
১) -
আরব উপদ্বীপের পরিবেশ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অপার আত্মত্যাগের কারণে ঈমান ও ইসলামের নির্মল আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে । অধিকাংশ অধিবাসীই আন্তরিকতার সাথে ঈমান আনয়ন করেছিল এবং বুঝতে পেরেছিল যে , শিরক ও মূর্তিপূজার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে দোযখ এবং শাস্তি ।
তারা যদিও ঈমান আনয়ন করার কারণে আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিল । কিন্ত তাদের পিতা-মাতাদের মূর্তিপূজারী হওয়ার তিক্ত স্মৃতি স্মরণ করে তারা কষ্ট পেত ।
যে সব আয়াতে কিয়ামত দিবসে মুশরিকদের জীবন সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যা এসেছে সেগুলো শ্রবণ করা তাদের জন্য ছিল খুবই কষ্টকর ও বেদনাদায়ক । নিজেদের এ আত্মিক যন্ত্রণা লাঘব ও দূর করার জন্য তারা মহানবী (সাঃ) এর কাছে অনুরোধ জানাত যেন তিনি তাদের প্রয়াত অতি নিকটাত্মীয় যারা কাফির ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ।

আর ঠিক এভাবেই হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর চাচা আযরের জন্যও এ কাজটিই করেছিলেন ।
নিম্নোক্ত আয়াতটি তাদের (আরবের নবদীক্ষিত মুসলমানগণ) অনুরোধের প্রতি উত্তরস্বরূপ অবতীর্ণ হয়েছিল --
)ما كان للنَّبِيِّ وَ الّذين آمنوا أنْ يَسْتَغْفِروا للمشرِكين و لو كانوا أولي قُربى مِن بعدِ ما تبيَّن لهم أنَّهم أصحابُ الجحيم و ما كان استغفارُ إبراهيمَ لأبيه إلّا عن موعدةٍ وعدها إيّاه فلمّا تبيَّن له إنَّه عدوٌّ للهِ تبرَّأ منه إنَّ إبراهيمَ لأوّاهٌ حليم(
“ -- নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য শোভনীয় নয় যে , তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে যদি তারা অতি নিকটাত্মীয়ও হয় , যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে , ঐ সব মুশরিক জাহান্নামের অধিবাসী । আর নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা ছিল ঐ প্রতিজ্ঞার কারণে যা তিনি তাকে (চাচা আযরকে) করেছিলেন । তবে যখন ইবরাহীমের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে , সে (আযর) আল্লাহর শত্রু তখন তিনি তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন । নিশ্চয়ই ইবরাহীম অত্যন্ত দয়ালু ও ধৈর্যশীল ---।”
সূরা - তাওবা / ১১৩-১১৪ ।

অগণিত দলীল-প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে , আযরের সাথে হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর কথোপকথন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অঙ্গীকার হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর যৌবনেই হয়েছিল ।
অবশেষে হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর চাচা আযরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন ।
অর্থাৎ এটি ঐ সময় হয়েছিল যখন হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর জন্মভূমি বাবেল ত্যাগ করে ফিলিস্তিন , মিশর ও হিজাযে গমন করেন নাই ।
এ আয়াত থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে , যখন আযর কুফর ও শিরকের মধ্যে দৃঢ়পদ থেকেছে তখন হযরত ইবরাহীম (আঃ) তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাকে মোটেও স্মরণ করেন নাই ।

২) -
হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর জীবনের শেষভাগে একটি মহান দায়িত্ব পালন (অর্থাৎ পবিত্র কাবার পুনঃনির্মাণ কার্য সমাপ্ত করার পর) এবং পবিত্র মক্কার শুষ্ক ও মরুপ্রান্তরে নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে আনয়ণ করার পর এমন সব ব্যক্তি সম্পর্কে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন যার মধ্যে তাঁর জন্মদাতা পিতা-মাতাও ছিলেন ।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর প্রার্থনা কবুল হওয়ার জন্য এ ধরনের দোয়াও করেছিলেন ,
)ربَّنا اغْفِرْلي وَلِوالِدَيَّ و للمُؤْمنين يومَ يقومُ الحِساب(
“ -- হে আমার প্রভু ! আমাদেরকে , আমার পিতা-মাতা এবং মুমিনদেরকে যেদিন বিচার (হিসাব-নিকাশ) করা হবে সেদিন ক্ষমা করে দিন --।”
সূরা - ইবরাহীম / ৪১ ।

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে , পবিত্র কাবাগৃহ নির্মাণ করার পরই হযরত ইবরাহীম (আঃ) বৃদ্ধাবস্থায় এ প্রার্থনা করেছিলেন ।

যদি উক্ত আয়াতে বর্ণিত والديَّ (আমার পিতা-মাতা) যাঁরা ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর দয়া , ভালবাসা এবং ভক্তিশ্রদ্ধার পাত্র এবং তাঁদের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করেছেন তিনিই যদি আযর হন তাহলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে , হযরত ইবরাহীম (আঃ) আমৃত্যু এবং তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত আযরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন নাই এবং কখনও কখনও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন !
অথচ যে আয়াতটি মুশরিকদের অনুরোধের উত্তরে বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে , হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর যৌবনকালেই আযরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন এবং তার থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন । আর ক্ষমা প্রার্থনার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ মোটেও সংগতিসম্পন্ন নয় ।

পাঠক ,
এই প্রসঙ্গে আরও কিছু দলীল দেখে নিন ।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ থেকে --

নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতা মুশরিক ছিলেন না । বরং আযর (উনার চাচা) মুশরিক ছিল । কেননা অকাট্যভাবে প্রমানিত যে , নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতা আযর নয। বরং অন্য একজন অর্থাৎ হযরত তারাখ (আঃ) ।
সূত্র - তাফসীরে কবীর , ১৩তম খন্ড , ৩৯ পৃষ্ঠা ।

আযর হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি হলেন তারাখ (আঃ) এর সুযোগ্য সন্তান।"
সূত্র - তাফসীরে মাযহারী , ৩য় খন্ড , ২৫৬ পৃষ্ঠা ।

নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতার নাম আযর নয় । বরং তাঁর পিতার নাম হল হযরত তারাখ (আঃ) ।'
সূত্র - তাফসীরু ইবনে কাছীর . ২য় খন্ড , ২৪০ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ফিকর, বইরুত লেবানন ।

হযরত আবী হাতিম (রহঃ) তিনি বলেন , আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আবু যুরয়াহ (রহঃ) ।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মিনজাব (রহঃ) । তিনি বলেন , আমাদের কাছে হযরত বিশর বিন আম্মারাহ (রহঃ) হযরত আবূ রাওক্ব (রহঃ) থেকে । তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে খবর দিয়েছেন ।
তিনি বলেন, হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতার নাম কখনই আযর ছিল না । নিশ্চয়ই তাঁর পিতার নাম ছিল হযরত তারাহ (আঃ) ।"
সূত্র - তাফসীরু ইবনে আবী হাতিম ৪র্থ খন্ড ১৩২৫ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা - মাকতাবাহ নাযার মুছতফা বায, মক্কাতুল মুকাররামা, রিয়াদ, সৌদি আরব ।

হযরত ইবনে আবী শয়বা (রহঃ) , হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (রহঃ) , হযরত ইবনু জারীর (রহঃ) , হযরত ইবনে মুনজির (রহঃ) ও ইবনে আবী হাতিম (রহঃ) ওনারা সকলেই হযরত মুজাহিদগন (রাঃ) থেকে বর্ননা করেছেন । তিনি বলেন , আযর হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতা ছিল না। বরং আযর ছিল একটি মূর্তির ( বা মূর্তিপুজকের ) নাম ।"
সূত্র - আদ দুররুল মানছুর লিল জালাসুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।

হযরত ফাররা ও জুজাজ (রহঃ) বলেন, হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পিতার নাম ছিল হযরত তারাখ (আঃ) ।
এ বিষয়ে সকল বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিকগণ ইজমা করেছেন।"
সূত্র - তাফসীরুল কুরআন লিস সাময়ানী ২য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ওয়াতান, রিয়াদ , সৌদী আরব ।

এই প্রসঙ্গে মহানবী (সাঃ) বলেন যে , মহান আল্লাহ সমগ্র কিছু সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন । এরপর তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে পাঠিয়েছেন। এবং সে গোত্রকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে প্রেরন করেছেন । সূতরাং আমি ব্যক্তি ও বংশের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ।"
সূত্র - তিরমীযি শরীফ ২য় খন্ড ২০১ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ ৩৬০৮ / মুসনাদে আহমদ ১ম খন্ড ২২০ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ ১৭৯১ ।

এসকল হাদীস শরীফ ওনার ব্যাখায় বলা হয়েছে--

হযরত মুহাম্মাদের (সাঃ) পূর্ব-পুরুষদের সিলসিলার মধ্যে কেউই কাফির-মুশরিক হওয়া সম্ভব নয়। "
সূত্র - তাফসীরে মাজাহারি ৪/৩০৮ ।

সম্মানীয় পাঠক ,
যে ব্যক্তি যৌবনকালে হযরত ইবরাহীমের (আঃ) ঘৃণার পাত্র হয়েছিল এবং যার সাথে তিনি সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন সেই ব্যক্তিটি ঐ ব্যক্তি থেকে ভিন্ন যাঁকে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সর্বদা স্মরণ করেছিলেন এবং যাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন ।

উপরে বর্নিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে , পৃথিবীতে আগত কোন নবী-রাসুলগনের সম্মানীয় জন্মদাতা পিতা-মাতা কখনই কাফির-মুশরিক বা মূর্তিপূজারী ছিলেন না ।

এই নীতিমালাটিই হচ্ছে বার ইমামীয়া শীয়াদের গুরুত্বপূর্ন একটি যৌক্তিক বিশ্বাস । সকলেই ভাল ও সুস্থ থাকুন ।

সালামুন আলাইকুম ইয়া সাহেবুজ্জামান (আঃ) ইবনে হাসান আসকারী (আঃ) ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম ,
আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম ,
আল্লাহুম্মাল আন কাতালাহ আমিরিল মুমিনিন (আঃ) ।