আয় রোজগারে বরকত চাইলে করণীয়


কি কাজ করলে ফেরেশতাদের দু'আ পাবেন চলুন জেনে নিই। আসুন, এরকম (৫) টি সময়ের কথা জানি যখন আমরা ফেরেশতাদের দুআয় শামিল হতে পারব।
(১) দান সদকার সময়
দান সদকার সময় ফেরেশতাগণ দাতার জন্য দুআ করেন। নবীজি (সাঃ) বলেছেন,
'প্রত্যহ সকালে বান্দা যখন উঠে, দুজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়। একজন দুআ করে ও আল্লাহ, যে দান করে আপনি তাকে দান করুন", দ্বিতীয় জন বলে যে (দান হতে হাত) গুঁটিয়ে রাখে, তাকে ধ্বংস করুন।
[সহীহ মুসলিম-(২৩৮৩)]
(২) মসজিদে সালাতের পর কিছুক্ষণ বসা অবস্থায়।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাঃ) বলেন, সালাত আদায়ের পর ব্যক্তি যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ তার জন্য এ বলে দুআ করতে থাকেন ও আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।
[সহীহ বুখারী-(৬৪৭)]
(৩) মানুষকে উত্তম বিষয় শিক্ষা দেয়া
আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযি.) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবীজির সামনে দুজন ব্যক্তির কথা বলা হলো, যাদের একজন আবেদ, আরেকজন আলেম। (তাদের মাঝে কে উত্তম?) নবীজি বললেন,তোমাদের সর্বশেষ জনের ওপর আমার যেমন শ্রেষ্ঠত্ব, আবেদের ওপর আলিমের অনুরূপ শ্রেষ্ঠত্ব।এরপর তিনি বললেন,আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসী থেকে শুরু করে, পিঁপড়া থেকে পাথর, (জলের) মাছেরা পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু'আ করে, যে শিক্ষক মানুষকে উত্তম বিষয় শেখায়।
[জামি আত-তিরমিযী-(২৬৮৫)]
(৪) অসুস্থকে দেখতে যাওয়া
অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার সময় ফেরেশতাগণ দুআ করেন। নবীজি বলেন,যে ব্যক্তি অসুস্থকে দেখতে যায়, কিংবা আল্লাহর জন্য ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন,তোমার মঙ্গল হোক, তোমার জীবন সুন্দর হোক, জান্নাতের একটি মনজিল তোমার হোক।
[তিরমিযী (২১৩৯)]
(৫) অন্যের জন্য দুআ করা
নবীজি (সাঃ) বলেন, একজন মুসলিম যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতে দুআ করে, সেই দুআ কবুল করা হয়। সে সময় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা অবস্থান করেন। ব্যক্তি যখন তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দুআ করে ফেরেশতা বলেন আমিন তোমার জন্য ও অনুরুপ।
[মুসলিম (২৭৩৩)]
দোয়া করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক অশেষ রহমত। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন নিজেদের চাওয়া গুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করার। কিন্তু কোনোদিন কি আমরা নিজেদের দোয়ার ভাষা গুলো নিয়ে ভেবেছি?? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আজকে দোয়া করার ধরন সম্পর্কে কিছুটা লিখছি।
আমরা যখন কোনো কিছুর জন্য আবেদন করে কোনো দরখাস্ত লিখি তখন অবশ্যই আমরা চেষ্টা করি নিজেদের চাওয়া টাকে সর্বাত্মকভাবে তুলে ধরতে। তখন দরখাস্ত টা অনুমোদন করার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঠিক তেমনি আল্লাহর কাছে যখন আমরা কোনো দোয়া করি তখন আমাদের এমনভাবে নিজেদের দোয়া পেশ করতে হবে যাতে সেই দোয়া কবুল হওয়া আমাদের জন্য কতটা জরুরি তা বলতে পারি।
দোয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এটাও দেখতে হবে যে আমরা কি চাচ্ছি আর কিভাবে চাচ্ছি। কারন দোয়া কবুলের জন্য সেটা অবশ্যই নেক উদ্দেশ্যে হতে হবে। আর দোয়া করলে আমাদের এই মাইন্ডসেট থাকতে হবে যে আমাদের দোয়া কবুল হবেই ইন শা আল্লাহ।
আজকে আমাদের প্রত্যহ করা কিছু দোয়া আমরা সুন্দরভাবে যেভাবে আল্লাহর দরবারে পেশ করতে পারি তা আমি নিজের ধারণা থেকে বলছি।
১.
❌ আল্লাহ অমুক ব্যাক্তিকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন।
✔ আল্লাহ যদি অমুক ব্যাক্তি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয় তবেই তাকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন নতুবা তার থেকে আমার মন ঘুরিয়ে দিন।
২.
❌ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি চাকরি জুটিয়ে দিন।
✔ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি হালাল আর সম্মানজনক চাকরি জুটিয়ে দিন।
৩.
❌ আল্লাহ আমাকে মৃত্যু দিন( এই দোয়া অনেকেই করেন কোনো কষ্টে পড়লে। এটা অবশ্যই অনুচিত।)
✔ আল্লাহ আমাকে সবর করার তৌফিক দিন। আমাকে নেক হায়াত দিন। আর আমার সব গুনাহ মাফ হওয়া ছাড়া আমাকে এই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েন না।
৪.
❌ আল্লাহ অমুক আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তার উপর গজব নাজিল করুন।( অনেকেই এরকম চাইতে দেখেছি। এটাও খুবই অনুচিত)
✔আল্লাহ অমুককে হেদায়েত দিন। তাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দিয়েন। আর আমি যদি তাকে কষ্ট দিয়ে থাকি তবে তাকে আমাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দান করুন। এবং তার সাথে আমার সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে ঘনিষ্ঠ করে দিন।
৫.
❌আল্লাহ তাড়াতাড়ি আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন।
✔ আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীনদার আর নেককার জীবনসঙ্গী প্রদান করুন। এমন জীবনসঙ্গী দিন যে আমার চক্ষু শীতল করবে, আপনাকে ভালোবেসে আমাকে ভালোবাসবে, আমার ইলম অর্জনের সহযোগী হবে, আর যে আমার জান্নাতের সঙী হবে। (অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা, বংশগত মর্যাদা ও নিজেদের মতো উল্লেখ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আগে দ্বীনকে প্রাদান্য দিবেন।)
৬.
❌আল্লাহ আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।
✔আল্লাহ আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন। আমাকে পর্যাপ্ত ইলম দান করুন, ইলম অনুযায়ী আমল করার আর তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার তৌফিক দান করুন।
৭.
❌আল্লাহ আমাকে সন্তান দান করুন।
✔ আল্লাহ আমাকে নেককার সন্তান দান করুন। এমন সন্তান দান করুন যে দুনিয়া ও আখিরাতে আমার জন্য কল্যাণকর হবে।
৮.
❌ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ করে ফেলেছি।।আমাকে মাফ করুন।
✔ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ মাফ করুন। আর আমাকে এমনভাবে হেদায়েত দিন যাতে আমি পুনরায় এই গুনাহ না করি। সেই গুনাহ আর আমার মাঝে একটি দেয়াল করে দিন।
আরো অনেক দোয়াই লিখা যায় এরকম। আজকে কমন কয়টা নিয়ে লিখলাম। আর দোয়া করার সময় আল্লাহর গুনবাচক নামগুলো দিয়ে দোয়া করার চেষ্টা করবেন। যেমনঃ চাকরির জন্য চাওয়ার সময় আর- রজ্জাক( আল্লাহ রিযিকদাতা), ক্ষমা চাওয়ার সময় আল- গফফার (আল্লাহ ক্ষমাশীল)। এভাবে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর অবশ্যই দোয়া কিংবা মুনাজাতের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা আদায় করবেন, তারপর নবীজী (স) এর উপর দুরুদ শরিফ পাঠ করবেন। দোয়া শেষ করার আগেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। ইন শা আল্লাহ দোয়া কবুল হবেই।
নিজের সীমিত জ্ঞান থেকে লিখেছি। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

বিপদ-আপদে পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমরা বিভিন্ন সময় বিপদে পড়ি। তখন আমাদের মনে রাখতে হবে কিছু বিষয় চলুন জেনে নেয়া যাক।
❖ আল্লাহ্ তা‘আলা প্রধানত মানুষের উপর বিপদ-মুসিবত পাঠান দুটো কারণে।
(১) গুনাহের শাস্তিস্বরূপ, যাতে তারা এই শাস্তির মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো (পাপ) কাজের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে।’’ [সুরা আর-রুম, আয়াত: ৪১]
(২) আল্লাহ্ তা‘আলা এই বিপদের মাধ্যমে মানুষের অনেক গুনাহ ক্ষমা করতে চান।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আর, তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’’ [সুরা শুরা, আয়াত: ৩০]
❖ এমতাবস্থায় অধিকাংশ মানুষ কী করে?
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘মানুষকে যখন দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে-বসে-দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর, আমি যখন তার দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে, যেন সে আপতিত দুঃখ-কষ্টের জন্য কখনোই আমাকে ডাকেনি।’’ [সুরা ইউনুস, আয়াত: ১২]
❖ বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আসলে লজ্জার কিছু নেই; বরং প্রশংসনীয় ব্যাপার।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার (পক্ষ হতে) শাস্তি আপতিত হলো, তখন তারা কেনো বিনীত হলো না?’’ [সুরা আন‘আম, আয়াত: ৪৩]
আল্লাহ্ নিজেই বলছেন, বিপদে পড়ার পর যাতে আমরা আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দু‘আ-কান্নাকাটি করি, নিজ ভুলের স্বীকৃতি দিই। এটি আল্লাহ চান যে, মুসিবতে পড়লে আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাই। অথচ, যখন কিছু মানুষ অসুস্থতায়, মৃত্যুভয়ে, বিপদ-মুসিবতে, ডিপ্রেশনে, রিলেশন ব্রেক-আপের কষ্টে, পারিবারিক ঝামেলায় বা অন্য কোনো বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের নিয়ে অনেতে ট্রল করা শুরু করেন! এমন নোংরা কাজের জন্য আল্লাহ কঠিনভাবে পাকড়াও করবেন। এমনকি পূর্বসূরি অনেক আলিম বলেছেন, কোনো মন্দ কাজ থেকে তাওবাহকারী ব্যক্তিকে যদি কেউ সেই কাজের জন্য লজ্জা দেয়, তবে সেই ব্যক্তির মৃত্যু ততদিন আসবে না, যতদিন না সে নিজেও এই কাজে জড়াবে। [তাফসিরে কুরতুবি]
এখন আপনি বলবেন, অনেকে তো শো-অফ করার জন্য বাহ্যত ধার্মিক সাজে। এরপর বিপদ কেটে গেলে আগের মতো হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্পষ্ট কথা হলো, কে কোন্ ইনটেনশন (নিয়ত) থেকে ধর্মে ফিরে আসেন, তার বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ আমার-আপনার উপর ন্যস্ত করেননি। মানুষের অন্তর ফেঁড়ে দেখাও আমাদের দায়িত্ব নয়। যিনি অন্তর্যামী, এই কাজটা তাঁরই। সুতরাং এতটা জাজমেন্টাল হবেন না। তাদের ফিরে আসাকে এপ্রিশিয়েট করুন, উৎসাহ দিন, তাদের জন্য দু‘আ করুন; নিজের হিদায়াতের জন্যও দু‘আ করুন। আমরা প্রত্যেকেই হিদায়াতের কাঙাল।

নিজ স্ত্রী ব্যাতিত অন্য কারো সাথে প্রেম করার পরিণাম কি হবে জেনে নিন। যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে কুমতলবের ইচ্ছা নিয়ে স্পর্শ করবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে যে তার হাত তার ঘাড়ের সাথে যুক্ত থাকবে। সে যদি কোনো নারীকে চুমু দিয়ে থাকে, তাহলে তার ঠোঁট দুটিকে আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হবে। আর যদি তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তাহলে তার দুই উরু সাক্ষী দিবে, আমি অবৈধ কাজের জন্য আরোহণ করেছিলাম।
তখন আল্লাহ তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবেন এবং এতে সে অপমান বোধ করে গোয়ার্তুমি করে বলবে ; আমি এ কাজ করিনি। তখন তার জিহ্বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে বলবে, ‘আমি অবৈধ বিষয়ে কথা বলেছিলাম’। তার হাত সাক্ষী দিবে, ‘আমি অবৈধ বস্তু ধরেছিলাম’। এরপর চক্ষু বলবে, ‘ আমি অবৈধ বস্তুর দিকে তাকাতাম’। তার দুখানা পা বলবে, ‘ আমি ব্যভিচার করেছি’। প্রহরী ফেরেশতারা বলবে, ‘ আমি শুনেছি’। অন্য ফেরেশতা বলবে, ‘আর আমি লিখে রেখেছি’। আর আল্লাহ বলবেন, ‘আমি জেনেছি এবং লুকিয়ে রেখেছি’।
এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘হে ফেরেশতাগণ! একে পাকড়াও করে আমার আযাব ভোগ করাও। কেননা যে ব্যক্তির লজ্জা কমে যায় তার উপর আমার ক্রোধের অন্ত নাই""
এ হাদীসের সমর্থন নিম্নের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়ঃ “যেদিন তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও পা সাক্ষী দিবে”। [সূরা আন নূর-২৪]
অন্য আয়াতে আছে, ".. যারা ব্যভিচার (বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা) করবে, তারা দ্বিগুণ শাস্তি ভোগ করবে, এবং অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে.." (সূরা আল ফুরকান : ৬৮- ৬৯)
“কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে,এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযালঃ৭-৮)
এসব হারাম সম্পর্কগুলো সৃষ্টি হয় দৃষ্টির মাধ্যমে। এজন্য হাদীসে দৃষ্টিকে শয়তানের তীর বলা হয়েছে। বেগানা নারীর সৌন্দর্য উপভোগ করাকে চোখের জিনা বলা হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নারী পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টির হেফাজত করতে আদেশ করেছেন (সূরা নূর: আয়াত ৩০-৩১)।
রাসূল্লাহ (স:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোন বেগানা নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে , কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে॥" (ফাতহুল কাদীর)
আল্লাহর ভয়ে মেয়েদের সৌন্দর্য উপভোগ করা, কুদৃষ্টি ও কামনার দৃষ্টি ত্যাগ করুন,আর অন্তরের মধ্য ইমানের মাধুরতা উপভোগ করুন। এটা পরীক্ষিত সত্য। আল্লাহ আমাদের দৃষ্টির হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। প্রেম, পরকীয়া সহ সব ধরণের হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

প্রতি বছর একটা ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে বাবা মায়ের সাথে ট্রেনে করে নানা বাড়ি যায়। ছুটি শেষ হলে সেই ট্রেনে করে ফিরে আসে। এবারও গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে। এ বছর ছেলেটি বাবা-মাকে বলে-আমি এখন অনেক বড় হয়েছি। আমাকে এবার একাই নানাবাড়ি যেতে দাও।
অনেকে আলোচনার পর অবশেষে বাবা মা রাজি হন। ছেলে ট্রেনে বসে আছে। বাবা মা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে। আদর দিচ্ছেন, সাহস দিচ্ছেন, অভয় দিচ্ছেন, দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। ট্রেনে ছাড়ার হুইসেল বেজে গেছে। ঠিক এমন মুহুর্তে বাবা ছেলের কানে কানে বলেন-যখনই তোমার মনে কোনো ভয়, শংকা আসে তবে এটা তোমার জন্য। এটা তুমি সযতনে রাখো।
ট্রেন চলতে শুরু করেছে। সাঁ সাঁ করে ছুটছে। সব কিছু মুহুর্তেই পেছনে পড়ে যাচ্ছে। জীবনে এই প্রথম ছেলেটি একেবারে একা। সবচেয়ে প্রিয়জন বাবা-মা কেউ তার সাথে নেই। একেকটা নতুন স্টেশান আসে। কেউ নামে, কেউ ওঠে। কত রকমের ছুটোছুটি। নানা রকমের মানুষের নানা রকমের ব্যস্ততা।
ছেলেটি এবার খুব নিঃসঙ্গতা অনুভব করতে থাকে। কেউ একজন এমনভাবে তার দিকে তাকায়- সে আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়। ট্রেন যত ছুটছে- জানালার বাইরে যত অন্ধকার নেমে আসছে। তার একাকীত্ব আর ভয় দুটোও বাড়ছে।
সে চুপচাপ বসে রইলো। বুঝতে পারছেনা কি করবে। ঠিক তখনই তার মনে হলো- বাবা তার পকেটে কি একটা রেখে বলেছিলেন- যদি মনে কোনো ভয় আসে। তখন সে যেন- তার পকেটে রাখা জিনিসটা দেখে।
কাঁপা কাঁপা হাতে সে পকেটে হাত রেখে বুঝতে পারে পকেটে একটা ছোট কাগজ। সেখানে বাবার হাতে লেখাঃ
কোনো দুঃশ্চিন্তা করোনা, ভয় পেয়োনা। বাবা তোমার পাশেই আছেন। বাবা তোমার অতি নিকটে- তোমার পাশের কম্পার্টমেন্টেই আছেন।
এটাই মানবজীবন।
যখনই কোনো ভয়,কোনো দুঃশ্চিন্তায় গ্রাস করে, কোনো শঙকা- কোনো দ্বিধায় মনকে বিচলিত করে, ঠিক তখন সাহস আর ভরসা পাওয়ার জন্য রাব্বুল আলামীনও আমাদের কাছে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে অভয় দিয়েছেন।
সেখানে লিখাঃ
"লা তাহজান ইন্নাল্লাহা মা'আনা" (সুরা:আত-তাওবাহ আয়াত-৪০)
হতাশ হয়োনা। নিরাশ হয়োনা। ভয় পেয়োনা। তোমাদের রব তোমাদের সাথে আছেন।
কোনো বিপদে , মুসিবতে খুব একা হয়ে গেলে- আল্লাহর উপর ভরসা রাখো। তাকে ডাকো। তিনি তোমাদের খুব নিকটেই আছেন। তিনি মানুষকে জীবন দিয়েছেন। এই জীবনের যাত্রাপথে তিনি তোমাদের সাথেও আছেন।
লিখেছেনঃ আরিফ মাহমুদ
(পুরুষদের জন্য) টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরা হারাম এবং কবীরা গোনাহ
লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট অথবা যে কোন কাপড় টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে পরা কবীরা গুনাহ্। চাই তা গর্ব করেই হোক অথবা এমনিতেই।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِيْ النَّارِ. ‘‘লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্টের যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে যাবে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’’। (বুখারী ৫৭৮৭)
যে ব্যক্তি টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান করে আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلَا يُزَكِّيْهِمْ، وَلَـهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ، قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ: خَابُوْا وَخَسِرُوْا، مَنْ هُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ!؟ قَالَ: الْـمُسْبِلُ، وَالْـمَنَّانُ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: الْـمَنَّانُ الَّذِيْ لَا يُعْطِيْ شَيْئًا إِلاَّ مَنَّهُ، وَالْـمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ.
‘‘তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাগুলো তিন বার বলেছেন। আবূ যর (রাঃ) বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী’’। (মুসলিম ১০৬; আবূ দাউদ ৪০৮৭, ৪০৮৮)
জাবির বিন্ সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: وَارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ، وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْـمَخِيْلَةِ، وَإِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْـمَخِيْلَةَ. ‘‘তোমার নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেকে উঠিয়ে নাও। তা না করলে অন্ততপক্ষে পায়ের গিঁট পর্যন্ত। তবে গিঁটের নিচে পরা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকবে। কারণ, তা অহঙ্কারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ তা‘আলা অহঙ্কার করা পছন্দ করেন না’’। (আবূ দাউদ ৪০৮৪)
জামা এবং পাগড়িও গিঁটের নিচে যেতে পারবে না।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: الْإِسْبَالُ فِيْ الْإِزَارِ وَالْقَمِيْصِ وَالْعِمَامَةِ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. ‘‘গিঁটের নিচে পরা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট, জামা, পাগড়ি ইত্যাদির মধ্যেও ধরা হয়। যে ব্যক্তি গর্ব করে এগুলোর কোনটি মাটিতে টেনে চলবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না’’। (আবূ দাউদ ৪০৯৪)
অসতর্কতাবশত প্যান্ট, লুঙ্গি বা পাজামা গিঁটের নিচে চলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা গিঁটের উপরে উঠিয়ে নিবেন।
উৎস: “হারাম ও কবীরা গোনাহ” বই
আল্লাহ সুবহানাহু আমাদের হারাম থেকে বাঁচার তাওফীক দিন।
ওমা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ।
আল্লাহুম্মা আমিন।

প্রশ্ন: ইসলামে ধর্ষকের শাস্তি কি?
উত্তর: কেউ যদি কোন নারীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে তাহলে তাতে দু ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয়। সুতরাং তার শাস্তিও দু প্রকার।
⚫ একটি অপরাধ হল, জিনা বা ব্যভিচার। ইসলামী ফৌজদারি আইন অনুযায়ী এর শাস্তি হল, বিবাহিত হলে রজম তথা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আর অবিবাহিত হলে একশ চাবুকাঘাত।
উল্লেখ্য যে, পারস্পারিক সম্মতিতে জিনা সংঘটিত হলেও ইসলামের এই কঠিন বিধান প্রয়োগ করা হবে।
⚫ অপরটি হল, অপহরণ বা শক্তি প্রয়োগ। এটি ডাকাতি পর্যায়ের অপরাধ। এর শাস্তি নিম্নরূপ: আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্ত ও পদযুগল বিপরীত দিক থেকে (যেমন ডান হাত ও বাম পা অথবা বাম হাত ও ডান পা) কর্তন করা হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।” (সূরা মায়িদাহ: ৩৩)
শরিয়া কোর্টের বিচারকগণ সার্বিক দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর উপর উপরোক্ত কুরআনের আইন বাস্তবায়ন করবেন।
🔸 উল্লেখ্য যে, ২য় আইনটির ক্ষেত্রে ব্যভিচার করা শর্ত নয়। অর্থাৎ কেউ যদি অস্ত্রের মুখে কোন নারীকে অপহরণ করে বা জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তাহলে তার উপর উক্ত আইন বাস্তবায়িত হবে; ধর্ষণ হোক বা না হোক। আর ধর্ষণ হলে তখন অপরাধ দুটি বলে গণ্য হবে এবং দুটিরই শাস্তি বাস্তবায়িত হবে।
🔸 এ শাস্তি কেবল ধর্ষণকারীর উপর প্রয়োগ হবে; ধর্ষিতার উপর নয়। কেননা, ধর্ষিতা এখানে নিরপরাধ বরং সে জুলুমের শিকার হয়েছে।
🔸 বিবাহিত ও অবিবাহিত নারী/পুরুষ জিনা করলে বিবাহিত ব্যক্তির উপর বিবাহিতের জন্য যে দণ্ড তা প্রয়োগ হবে আর অবিবাহিত উপর অবিবাহিতের জন্য যে দণ্ড তা প্রয়োগ হবে।
আল্লাহু আলাম।
লেখাঃ শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন - "যে ব্যক্তি মানুষের শোকর আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরও করে না। " (তিরমিযী : ১৯৫৪)।
শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিভিন্ন শব্দ আমরা ব্যবহার করে থাকি, যা অধিকাংশই অনর্থক কিন্তু এমন একটি শব্দ রয়েছে যার দ্বারা কৃতজ্ঞতা আদায়ের সাথে দু'আ করাও হয়ে যায়। শব্দটি হলো জাযাকাল্লাহু খইরন। এটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।
১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই “খাইর” শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হল।
২। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।
৩। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
৪। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।
৫। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।
৬। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
৭। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।
৮। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।
৯। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
১০। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।
এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগুনিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন” বলে।
ﻋﻦ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣَﻦْ ﺻُﻨِﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻌْﺮُﻭﻑٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻔَﺎﻋِﻠِﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ) .
ﺭﻭﺍﻩ ” ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ” ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ ” ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ”
অর্থঃ হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার আচরণ করা হলো তাই সে ব্যক্তি আচরণকারীকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলল, তাহলে সে তার যথাযোগ্য প্রশংসা করল।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ” ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ”
অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন তার ভাইকে বলে, “জাযাকাল্লাহু খাইরান” তাহলে সে তার ভূয়সী প্রশংসা করল।
ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻟَﺄَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ . ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ﻻﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ )
হযরত ঊমর (রাযি.) বলেন, তোমাদের কারো যদি জানা থাকত যে, তার অপর ভাইকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলার মধ্যে তার জন্য কি রয়েছে!
তাহলে তোমরা একে অপরের জন্য তা বেশি করে বলতে।
ফজরের পর ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, যত কষ্টই হোক। এসময় পড়াশোনাসহ যেকোন কাজ করুন, বরকত পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলার মধ্যে তাদের বরকত দাও।’ [আবু দাউদ: হাদিস নং- ২৬০৮]
ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "দিনের প্রথম অংশটি একজন ব্যক্তির যৌবনকালের মত। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠুন এবং আপনার সকালকে কাজে লাগান।"
যারা ফজরের সলাতই পড়েন না বা পড়তে পারেন না, তারা নিঃসন্দেহে লুজার, হতভাগা। কারণ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কোনো দায় নেই। সহিহ হাদিসে এসেছে, ফজরের সলাত পড়লে ব্যক্তি আল্লাহর যিম্মায় চলে যায়।
যারা ফজরের সলাত পড়েন তাদেরও বড় একটি অংশ ফজরের পর আবার বিছানায় গা এলিয়ে দেন। এটি বাদ দিতে হবে। কারণ ফজরের পরের সময়টাতে রিযিক বণ্টিত হয় মর্মে সালাফগণের উক্তি আছে। এ সময়ে ঘুমানো মানে নিজের লস। এছাড়া মুসলমানদের ঐতিহ্যই হলো, ফজরের পর দীর্ঘ সময় নিয়ে যিকর করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা। এগুলোর দ্বারা দিনটা শুরু করতে পারলে মনটা অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরে ওঠে।
রাতের বেলায় অবশ্যই ১১/১২-টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। সম্ভব হলে ১০-টার মধ্যে। তাহলে ইনশাআল্লাহ্ ফজরের পরের ঘুম বাদ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের আলস্য দূর করুন। আমীন।
🔎 Tasbeeh
আমি বুঝি না মানুষ কীভাবে মনে করে যে আল্লাহ তাকে কষ্ট দিয়ে, ডিপ্রেশনে আক্রান্ত করে মজা পান? আল্লাহ তো তাকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথের দিশা দিতে তার মনটা একটু খারাপ করে দেন, যেন তার মন খারাপ হলে সে মনের মালিকের নিকট ফেরত আসে।
মুমিন ডিপ্রেশনে ভুগলে তার রবের সাথে তার সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়। যখন মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে, তখন তার মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে। প্রতিটি শব্দ রক্তমাখা হয়ে থাকে। এই মুহূর্তে যদি রবের দরবারে হাত তোলা যায়, ড্যাম শিউর যে মুখ থেকে বলার আগেই দু'আ আরশে আজীমে পৌঁছে যাবে। আপনাকে যিনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন, যিনি আপনার সর্বাধিক আপন, তিনি আপনার কষ্টমাখা কথাগুলো শুনে স্থির থাকতে পারবেন না৷ আপনার কষ্টে হৃদয়ের রক্তে মাখা আপনার রবের রহমতের দরিয়ায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি করবে।
আপনার বেস্টফ্রেন্ড না, সাধারণ সহপাঠী। ডিপ্রেশনের সময়ের কথাগুলো যদি তাকেও বলেন, তার মনে আপনার জন্যে দরদ উথলে উঠবে। তাহলে আপনার বেস্টফ্রেন্ড, স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা সবার চেয়ে যিনি আপনাকে বহুগুণে বেশি ভালোবাসেন; তিনি আপনার এত আবেগমাখা কথাগুলো শুনে কী করে স্থির থাকতে পারেন?
ডিপ্রেশনের সময় রবের দরবারে যদি হাত তুলতে পারেন, তাহলে সেটা হবে আপনার জীবনের পরম সৌভাগ্য। দু'আ যত কেঁদেকেটে করবেন, তার কাবুলিয়্যাতের চান্স ততবেশি হবে। দু'আর সময়ের কথাগুলো যতবেশি আবেগে মাখা থাকবে, রাব্বে কারীমের দরবারে এর মর্যাদা ততবেশি হবে।
কথাগুলো কোনো নাসীহা না, এগুলো ফ্যাক্ট। মানুষকে নসীহত করার যোগ্যতা ও বয়স কোনোটাই আমার হয়নি। আমি জাস্ট ফ্যাক্টটা আপনার সামনে তুলে ধরলাম। এর সত্যতা আপনি নিজে যাচাই করে দেখতে পারেন।
~আবরার আমীন
গান শোনা ছাড়ার জন্য নিজের ইচ্ছা শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ন । আমি আমার নিয়তের উপর কতটা খালেছ এটা জরুরি। কাজেই পাক্কা নিয়ত থাকতে হবে । তারপর দরকার আল্লাহ সুবহানু তায়লার সাহায্য । আল্লাহ সুবহানু তায়লার কাছে বেশী বেশী দুয়া করা তিনি যেন আমাকে সাহায্য করেন । গান ছাড়ার জন্য আপনাকে আপনার ফোন, পিসি , মেমরি আশে পাশে যত ডিভাইস আছে তার সব গান ডিলিট করতে হবে। শয়তানের ধোকার দুই একটা পছন্দের গান রেখে দেবো, এটা করা যাবে না।
#গান তো কেটে ফেললাম এখন তার বদলে কি শুনব?
এটা একটা গুরুত্ব পূর্ন প্রশ্ন। এক্ষত্রে সাজেস্ট করা যায়।
১/ লেকচারঃ এই টাইম টাতে বেশী বেশী লেকচার শুনুন ।যা আপনার ইমান তাজা করতে সহায়তা করবে।লেকচার হিসেবে প্রাথমিক অবস্থায় এগুলা শোনা যায়ঃ
হেয়ার আফটার সিরিজ।প্রথমিক ভাবে যারা দ্বীনে আসেন তাদের জন্য এর থেকে উপকারি কিছু আছে কিনা জানা নেই।
এটার সাথে সাথে নবী কাহিনি শুনতে পারেন । নবী গন হচ্ছেন আমাদের পর্থিকৃৎ আমাদের আইডলদের থেকে শিক্ষা নেয়া আমাদের জন্য জরুরি ।তাছাড়া ঘটনা গুলো অনেকটা গল্পের মত হওয়াতে শুনতে ভালো লাগেব।
ইংরেজিতে পারদর্শী হলে ভালো কোন সিরাহ শুনতে পারেন ,সেই সাথে সাহাবাদের জিবনি ।আমি এ ব্যাপারে প্রিফার করব শাইখ আওলাকির লেকচার।
শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর কিছু লেকচার ও শুনতে পারেন।
মাওলানা যুলফিকার আহমেদ এর কিছু সর্ট উর্দু বয়ান আছে খুব তাছির করে।
শাইখ তামিম আল আদনানির লেকচার গুলা খুবি ইফেকটিভ । সাথে সুন্দর ভিডিও ভালো লাগবে ।
২/ কোরান তেলাওয়াতঃ কোরান আপনার অন্তরকে প্রশান্ত করবে। অন্তরকে নরম করবে। এ ক্ষেত্রে একবারে বড় সুরা গুলা শুনার ধৈর্য্য নাও থাকতে পারেন ছোট ছোট হার্ড টাচিং আয়াত শুনুন।
৩/ নাশিদঃ অল্প কিছু মিউজিক বিহিন নাশিদ শুনতে পারেন। যত কম শোনা যায় । এ ব্যাপারে রনাজ্ঞন, নওসাদ মাহফুজ, আবু আলী সাজেস্ট করা যায়।
আরেকটা জরুরি কাজ হচ্ছে যেসব ফ্রেন্ড গান শোনে তাদের থেকে দূরে থাকা ।
পরিবারে সাথে সময় কাটাতে পারেন ।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ুন।
নাটক, সিনেমা, টিভি দেখা ত্যাগ করুন।
এর পরের যদি শয়তান ধোকা দেয় , তাহলে শাস্তির ব্যাবস্থা রাখুন। মানে ধরুন আপনি ভুলে গান শুনে ফেলেছেন । প্রতিটা গানের জন্য দুই রাকাত করে নফল সলাত আদায় করুন। এটা আপনার ডেস্কের সামনে লিখে রাখতে পারেন বা একটা চার্ট বানাতে পারেন । সপ্তাহ শেষে হিসাব করুন কয় রাকাত সলাত আদায় করেছেন ।
© সাজ্জাদুর রহমান শাওন

যারা চান গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকতে, তবে সেটা পাড়ছেন না..তাদের জন্য একটা magical tips বলি৷ নিজের experience টা share করি৷
আমি সাধারণত আগে সারাদিন ইন্টারনেটে থাকতাম, এখনো থাকি তবে আগে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করতাম(যেটা আমাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলো)💔, আর এখন ইন্টারনেট'টা ভালো দিকে'ই ব্যবহার করছি আলহামদুলিল্লাহ ৷
আমার মধ্যে যখন জাহান্নামের আগুনের ভয় ডুকে যায়, তখন থেকে আস্তে আস্তে হাদিস পড়া শুরু করছিলাম ৷ তবে তখন'ও আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি নি(নামাজ)৷ তখনো আমি পাড়ছিলাম'না নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে৷
এরপর আমি আমার আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ শুরু করি (আলহামদুলিল্লাহ)❤৷ নামাজ পড়তাম,তবে regular না ৷ নামাজে কেদেঁ কেদেঁ বলতাম "ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে পাপ থেকে দূরে রাখেন৷
Trust me ভাই-বোন'রা কয়-একদিন পর,আমার সব পাল্টে যায় ৷ ফেসবুকের পিক ডিলিট,ফোনের গান ডিলিট,even সব রকম গানের গ্রুপ থেকে leave নেই ৷ এরপর নিজের সৌন্দর্য্য গোপনের জন্য পর্দা শুরু করি(আলহামদুলিল্লাহ)🖤৷ এইসব আল্লাহর রহমত ছাড়া সম্ভব হতো না ৷ 💘👈🏻
আল্লাহ হাদিস শরীফে এরশাদ করেছেন " আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’’ [বুখারি ৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৬, ৭৫৩৭, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযি ২৩৮৮, ইবন মাজাহ ৩৭২২, আহমদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ৯৪৫৭]
সুতরাং খাস দিলে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা শুরু করুন, দেখবেন সব পাপ থেকে আপনি দূরে থাকবেন ৷ Trust me শয়তান আপনার কাছে'ও ঘেসতে পারবেন না৷ তবে শুরু করুন আজ থেকে নামাজ পড়ার অভ্যস, magical tips টি কাজে লাগান,দেখবেন জীবন কতো সুন্দর হয় ইহকাল ও পরকালে৷❤🖤

আমরা সবচাইতে বেশি উদাসীন আমাদের পরিবার নিয়ে। বাইরের মানুষদের নিয়ে আমরা যতটা বেশি চিন্তিত ঘরের মানুষগুলো আমাদের কাছে ঠিক ততটাই অবহেলিত! আমরা অনেকেই দ্বীনের জ্ঞান অন্যের কাছে বিতরণ করি।বন্ধু-বান্ধব, নিকট আত্নীয় অনেকেই নিয়ে আশা রাখি যে,তারা দ্বীনের কাফেলার সাথী হোক কিন্তু সবার আগে এই চিন্তাটা হওয়া উচিত ছিল আমাদের পরিবারগুলো নিয়ে!
আমার মা হয়ত খুব একটা পর্দা করতে সাচ্চন্দ্যবোধ করেন না, মাহরাম-ননমাহরাম নিয়ে সচেতন নন বললেই চলে, প্রতিবেশীর সাথে "গীবত" এর মত জঘন্য "কবিরাগুনাহ" এ লিপ্ত কিংবা আমার বাবা হয়ত সিগারেটে আসক্ত নয়ত চোখের হেফাজত নিয়ে কোন আক্ষেপ-ই তার নেই, হালাল-হারাম নিয়ে সচেতনতার নামগন্ধও তার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না নতুবা সর্বকনিষ্ঠ সহোদর আজ হয়ত হস্তমৈথনের বিষাক্ত বাতাসে আসক্ত, নাচ-গান, টিভি, গেমস, সিনেমার নায়ক-নায়িকার রোমান্টিকতার ছোঁয়ায় পাগলপারা এমনও হতে পারে যুগের তালে অবৈধ সম্পর্কের নষ্টামিতে জীবনকে সাঁজাতে ব্যতিব্যস্ত!
এসবই আমাদের খুব করে জানা; কিন্তু সেই সৎ সাহস-ই হয়ত আমাদের নেই যে,আমরা এসব অনৈতিক কাজে আওয়াজ তুলব, তাদেরকে সচেতন করব!অথচ বাইরের অনলাইন কিংবা অফলাইনের মানুষগুলো নিয়ে আমাদের আক্ষেপের জুড়ি নেই। পক্ষান্তরে,পরিবারের সদস্যদের জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার ব্যাপারে আমরা মোটেও উদ্ধিগ্ন নই। যাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের সম্পর্কে আমরা বেশি জিজ্ঞাসিত হব তাদের ব্যাপারেই আমরা সবচাইতে বেশি উদাসীন। কিন্তু বাস্তবতা হওয়া উচিত ছিল এর ঠিক উলটো!
প্রতিটা মানুষ যদি আগে পরিবার, পরে সমাজ ও শেষে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে ভাবত তবে পৃথিবীতে এত অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য সৃষ্টি হত না। পারিবারিক নৈতিকতার অবক্ষয় আজ আমাদের সমাজকে কোলষিত করেছে। নিজেকে পরিবর্তনের পর সবার আগে পরিবারকে প্রাধান্য দিন দেখবেন প্রতিটা সমাজই বদলে যাবে,অন্ধকার কেটে গিয়ে উদিত হবে নতুন দিনের নতুন সূর্য।
রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারকে এমনভাবে গড়েছিলেন যে, তার পরিবারের প্রতিটা সদস্যের চরিত্রই ছিল শিক্ষণীয়। কেউ পরিবারের ওপর আঙ্গুল তুলে বলতে পারে নি যে আপনার পরিবারের ওমুক সদস্য এমন! আমাদের ভাই-বোনদের হয়ত পরিপূর্ণ পাব না, মা-বাবাদের প্রতি সম্মানবোধের কারণে হয়ত তাদের সেভাবে শুধরে দিতে পারব না তবে সবার আগে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।
তাদের "গীবত" নিয়ে সচেতন করার আগে আমি নিজে গীবতের বিষয়ে শতভাগ সচেতন কিনা, পর্দার বুলি আওড়ানোর আগে নিজের চক্ষুকে হেফাজতের কোন অবহেলা আমার মাঝে আছে কিনা, ছোট ভাই-বোনদের শাসনের আগে এটা বিবেচনা করতে হবে তাদের প্রতি আমি স্নেহশীল কিনা; নাকি আদরের তুলনায় বেশি কঠোর, বড় ভাই-বোনদের সচেতন করার আগে ভেবে দেখতে হবে তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল কিনা! কেবল তখনই অন্যদের কাছে আমার নসিহত গ্রহণযোগ্যতা পাবে যখন আমি নিজেকে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারব; এর আগে মোটেও নয়!
রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের কাছে এতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন কারণ তিনি নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। তাই,কারো কাছে দ্বীনের জ্ঞান ছুড়েঁ মারার আগে যাচাই করা উচিত আমার এই কথা তাদের ওপর কতটুকু প্রভাব পড়বে? আর যদি আপনি ভেবে থাকেন যে এভাবে এতসব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না, শুধু নিজে ঠিক থাকলেই হল বাকিরা জাহান্নামে যাক তবে নিশ্চিত জেনে রাখুন আপনার এসব ইবাদতের নূন্যতম গ্রহণযোগ্যতাও আল্লাহর কাছে নেই!
আমি ফাঁকা বুলি ছুড়েঁ দিচ্ছি না কিংবা গায়েবের খবর জানি এমনও নয়! হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি তোমরা অবশ্যই ভাল কাজে মানুষদেরকে নির্দেশ দিবে এবং অবশ্যই অন্যায় কাজে মানুষদেরকে নিষেধ করবে। যদি তা না কর তাহলে আল্লাহ তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। এরপর তোমরা তার নিকট প্রার্থনা করলেও তিনি তা কবুল করবেন না।" এছাড়াও রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"প্রত্যেক দায়িত্ববান ব্যক্তিকেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
আর নিঃসন্দেহে দায়িত্বের দিক দিয়ে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের ক্ষেত্রে আপনার পরিবার,আপনার সমাজ অধিক হকদার। এই হক আদায় না করে যদি কেবল অনলাইন দুনিয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তবে এটা আপনার পূরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার ব্যাপারে মোটেও সহায়ক হবে না।
অতএব,অন্যের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের সংশোধন যতটা জরুরী, রবের কাছে নিজের ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য পারিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও ততটাই জরুরী!
সাবধান! আপনি "দাইয়ুস"-এর দলে পড়েন না তো? আপনি কেন আপনার বোনের জন্য, আপনার মায়ের জন্য, আপনার কন্যার জন্য, আপনার স্ত্রীর জন্য জাহান্নামী হবেন? বাংলাদেশে প্রায় আনুমানিক ৯০% পুরুষ দাইয়ুসের তালিকায়। তার মানে তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামি?
এখন আপনি বলবেন আপনি এই তথ্য কোথায় পেয়েছেন তথ্যসূত্র দেন। আমি বলবো সবকিছুর তথ্যসূত্র থাকেনা। যেগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয় না, সেগুলো সম্পর্কে আপনি একটু চিন্তা গবেষণা করে তথ্যগুলো বের করতে পারেন। এই তথ্যটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত গবেষণা থেকে।
আপনি আপনার চোখ গুলো একটু ঘুরিয়ে দেখুন, অথবা নিজের দিকেই লক্ষ্য করে দেখুন। আপনার অধীনস্থ ব্যক্তিরা কতটুকু গুনাহ থেকে বিরত রয়েছে, আপনি তার বিরুদ্ধে কতটুকু ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দেখুন আপনার বোন, আপনার মা, আপনার স্ত্রী, আপনার কন্যা বেপর্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অবাধে তার ছেলে বন্ধুদের সাথে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে মেলামেশা করছে। আপনি একটু গভীরভাবে চিন্তা ফিকির করে দেখুন হাতেগোনা কয়েকজন ব্যতীত সবাইকে আপনার দাইয়ুস মনে হবে।
আমরা প্রত্যেকে জানি আল্লাহ তাআলা দাইয়ুসের জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে এটাও পরিষ্কার যে দাইয়ুস জাহান্নামে যাবে।
"দাইয়ুস" এমন ব্যক্তি যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। (মুসনাদে আহমাদ, নাসাঈ)..
ঐ ব্যক্তিকে "দাইয়ুস" বলে - যে তার স্ত্রীকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে অশ্লীল কাজের সুযোগ করে দেয়, বা তারা অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকলেও সে নিরব সম্মতি দিয়ে যায়, এবং তাদের শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয়।
দাইয়ূস ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "দাইয়ূস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (নাসাঈঃ ২৫৬২, আহমাদ, মিশকাতঃ ৩৬৫৫, সহীহুল জামেঃ ৩০৫২)।
আপনি জানেন আপনার বোন বেপর্দায় চলাফেরা করে।কলেজ ইউনিভার্সিটি'তে অবাধে মেলামেশা করে।আপনি এটাও জানেন তার অনেক ছেলে বন্ধু রয়েছে,এমনকি তার বয়ফ্রেন্ড আছে সেটাও আপনি জানেন কিন্তু আপনি এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। তাহলে এটা মেনে নিন আপনিও দেশের তালিকায় । আর আপনার জন্য আল্লাহ তা'আলা আপনার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন।
আপনি সমাজের একজন হাজ্বী-গাজী, দাড়ি-টুপিওয়ালা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী লোক ।, কিন্তু আপনার স্ত্রী ও মেয়েদেরকে দেখা যায় রাস্তা-ঘাটে বে-পর্দা হয়ে বের হতে।
কী কাজে আসবে আপনার এই পরহেজগারিতা! দাইয়ুস হয়ে আপনাকে যেতে হবে জাহান্নামে! কারন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "তিন প্রকার লোকদের জন্য আল্লাহপাক জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেনঃ (১) অনবরত মদ পানকারী, (২) পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি এবং (৩) "দাইয়ুস" (এমন ব্যক্তি যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়)।" (আহমাদ, সাহীউল জামে: ৩০৪৭)
আপনার স্ত্রী অনেক সুন্দর, আপনার স্ত্রী'র সুন্দর ছবি আপলোড করে সবাইকে দেখানোর জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। আর এতে আপনি গর্বিত বোধ করেন যে, দেখো আমার স্ত্রী কতো সুন্দরী!
আবার অনেক পরহেজগার পিতা/অভিভাবক তার পরিবারের অনেক অশ্লীল কাজ দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন! বা অনেকে ছোটো-খাটো ব্যাপার মনে করে এগুলোকে উড়িয়ে দেন!
আমরা এমনিতেই নিজেরা কত গুনাহের কাজে লিপ্ত তার উপর আমাদের মেয়ের জন্য,আমাদের বোনের জন্য, আমাদের স্ত্রীর জন্য আমরা জাহান্নামের টিকিট কাটছি ।
একটু ভেবে দেখুন আপনি কেন আপনার বোনের জন্য, আপনার মায়ের জন্য, আপনার স্ত্রীর জন্য, আপনার মেয়ের জন্য ,জাহান্নামী হবেন?
এখনো সময় আছে তাদেরকে বোঝান, তাদেরকে পর্দায় আবৃত করুন। পরিবারের কোন অশালীন কাজ দেখতে পেলে সেটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
আপুরা আপনাদেরকে বলবো, নিজেকে আল্ট্রামডার্ন করতে গিয়ে নিজে তো গুনাগার হচ্ছেন ই । তারপর আপনার ভাই, আপনার বাবা, আপনার স্বামীকে, জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আমি বলব নিজেকে সমস্ত গুনাহ থেকে বিরত রেখে পর্দায় আবৃত করে রাখুন।
সর্বোপরি আমি একটা কথাই বলতে চাই,গভীরভাবে চিন্তা ফিকির করে দেখুন আপনি আমি সবাই দাইয়ুস এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদেরকে এখনই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নয় তো আপনার আমার জায়গা হবে জাহান্নাম।
লেখক - মাহমুদ বিন নুর
সুপরিচিত এক ছোট বোন কে একবার নসীহা স্বরুপ বলেছিলাম ফেইসবুকে এত ছবি দাও কেন ? সে জবাবে বললো, আপু আজকাল যুগটাই এমন । ছবি না দিলে আত্মীয়-স্বজন কানাঘুষা করে বলে, আমরা মনে হয় ভালো নাই । আর্থিকভাবে কষ্টে আছি । তাছাড়া প্রেম করে বিয়ে করেছি বলে ফ্যামিলির অনেকে কটু কথা বলে পিছনে পিছনে । তাই যে কোন অকেশানে বা জামাই নিয়ে বেড়াতে গেলে দু-চারটা ছবি তুলে ফেইসবুকে না দিলে লোকজনের মুখ বন্ধ করা যায়না । মনে করে আমরা বিবাহিত জীবনে অসুখী, কোন ঝামেলা হচ্ছে আমাদের মাঝে । লোকজনকে দেখানোর জন্য হলেও তাই ছবি দিতে হয় ।
আরেক পরিচিত বোন সেও প্রচুর ছবি দেয় । জানলাম কাজিনরা সামাজিকভাবে অনেক ভালো পজিশনে আছে । এছাড়া হাসব্যান্ডের বন্ধুর বৌ-রাও নানান সময়ে এখানে সেখানে ঘুরতে গেলে চেক ইন দিয়ে ছবি আপলোড দিয়ে সবাইকে জানায় । তাদের সাথে কম্পিটিশন দিতে গিয়ে সেও প্রচুর চেকইন আর ছবি দেয় । সোশ্যাল স্ট্যাটাসটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে জাহির না করলে লোকজন কু-ধারণা করে । ভিতরটা যেমন তেমন হোক বাহির টা চোখ ধাঁধানো হওয়া চাই ।
আরেক বোন বললো, হাসব্যান্ড খুব ভালো ইনকাম করে । সেও উচ্চ শিক্ষিত এবং জব করে । বললাম তোমার তো প্রয়োজন নাই তাহলে শুধু শুধু জব করো কেনো । সে বললো তার বাবার দিকে ও মায়ের দিকের সব মেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত । সবাই জব করে । জব ছেড়ে দিলে সবাই কটু কথা শোনায়, ছি ছি করে । তাই জব করাটা তার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু না হলেও সামাজিক মর্যাদা টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও করতে হচ্ছে ।
এই যে এত এত উদাহরণ আমাদের চারপাশে সবকিছু একটা কনসেপ্টের উপর ভর করে আছে -
‘ লোকে কি বলবে ‘
শুধু মাত্র এই একটি ব্যপারে অতিমাত্রায় ফেকাস থাকার কারণে আমরা অনেক সময় গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ি । অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস করে দেই । অথচ আজ যাদের সুধারণা ও কুধারণা নিয়ে আমাদের এত মাথা ব্যথা তারাই একদিন আমাদের মৃত্যু সংবাদ পেলে বলে উঠে -
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ....
কি অদ্ভুত না ! সারা জীবন যারা আপনাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার বিধান মানতে বাঁধা দেয়, বারবার সামাজিক মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহ দেয় এই তারাই কিনা সেদিন আপনার দুনিয়া ত্যাগের কথা শুনে শেষ পর্যন্ত এক আল্লাহ-কেই স্মরণ করে এবং জান্নাতে আপনার উচ্চ মর্যাদা নসীবের দুআ করে ।
কি বৈপরীত্য ! কতটা না আফসোসের !
অথচ মায়ের গর্ভে তিন স্তর বিশিষ্ট অন্ধকারে যিনি আপনাকে লালন পালন করেছেন, দুনিয়ার আলো বাতাসে যিনি আপনাকে অবিরত প্রতিপালন করেছেন এবং মৃত্যুর সাথে যে জীবনের সমাপ্তির মাধ্যমে আপনি পরজীবনে তাঁর সাক্ষাতে একাকী দাঁড়াবেন - আপনি সে পুরো জীবনেই তাঁকেই এড়িয়ে গিয়েছেন দ্বিধাহীন ভাবে ।
দুনিয়ার জীবনে শুধু ইন্না লিল্লাহ পড়ে বিদায় জানানো লোকদের পরওয়া না করে যদি লড়ে যেতে পারেন তো নিশ্চিত জানুন, আখিরাতের অনন্ত জীবনে দয়াময় সে প্রতিপালক আপনাকে স্বাগতম জানিয়ে বলবে -
“ হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে । অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে ...”
[ সুরা আল-ফযর, ২৭-৩০ ]
ছোট্ট একটা জীবন আমাদের ! এ জীবনটা পরম ভালোবাসায় এই আহবান শোনার জন্য একটু কষ্ট করে কি কাটিয়ে দেওয়া যায়না ? যায় কি ?
লেখাঃ নুসরাত জাহান



