Sunday, August 16, 2015

ফেরাউনের লাশ ৩১১৬ বছর পানির নীচে পঁচেনি একটুও কেন ?

ফেরাউনের লাশ ৩১১৬ বছর পানির নীচে পঁচেনি একটুও কেন ?
“কোরআনে আছে ফেরাউন ডুবে মারা গেছে আর মৃত্যুর পরও তার শরীর অক্ষত রাখা হবে, পরবর্তি সীমালংঘনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে। 

“বনী ইসরাইলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী, অত:পর তাদের পশ্চাদ্ভাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্ধেশ্যে, এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করলো, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি কোন মাবুদ নেই তিনি ছাড়া যার ইবাদত করে বনী ইসরাঈলরা। অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। নি:শন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।”
(সূরা ইউনুস:৯২)।

ঐতিহাসিকগণ ১৮৯৮ সালে ফেরাউনের লাশ উদ্ধার করেন। যা আজ মিশরের কায়রোতে দ্যা রয়েল মমী হলে একটি কাচের সিন্দুকের মধ্যে রয়েছে। এর দৈর্ঘ ২০২ সেন্টিমিটার। ৩১১৬ বছর পানির নীচে থাকা সত্ত্বেও তার লাশে কোন পচন ধরে নি।

১০০ বছর মৃত থাকার পর আবার ফিরে এসেছিলেন যে নবি।

১০০ বছর মৃত থাকার পর আবার ফিরে এসেছিলেন যে নবি।
হজরত উজায়ের [আ.] ছিলেন সেইসব বন্দী বনি ইসরাইলিদের বংশধরদের একজন যাদেরকে বাবেল সম্রাট নেবুচাদনেজার জেরুসালেম ধ্বংস করে দাস হিসেবে ব্যাবিলনরাজ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সম্প্রদায় ছিলো বনি ইসরাইল তথা ইহুদি।ব্যাবিলন সাম্রাজ্যে কিছুদিন দাস হিসেবে বসবাসের পর বনি ইসরাইল সম্প্রদায় ধীরে ধীরে দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। নবি উজায়ের ছিলেন সেসব মুক্ত ইসরাইলির অধঃস্তন বংশধর। বিভিন্ন উপাত্ত থেকে জানা যায়, তার পিতার নাম ছিলো সুরিক।

ব্যাবিলনে আসার পর বনি ইসরাইলিদের ৭০ বছর কেটে গেছে। যুবক উজায়ের আ.একবার চাইলেন তিনি তার পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান জেরুসালেম দেখতে যাবেন। তাই তিনি জেরুসালেমের উদ্দেশে রওনা হন। বিভিন্ন রেওয়ায়েত অনুসারে এ সময় তার বয়স ছিলো ৪০ বছর। তিনি এসে দেখতে পান পুরো জেরুসালেম এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। একটা বাড়ি-ঘরও আস্ত নেই। চারদিকে ছড়ানো ছিটানো ইট-পাথর, মানুষের হাড়-গোড় মাটির সাথে মিশে আছে। তিনি তার পরিবারের লোকদের কাছে যে জাঁকজমকপূর্ণ জেরুসালেমের কথা শুনেছিলেন, তার সঙ্গে এই জেরুসালেমের কোনো মিলই খুঁজে পেলেন না।

নবি উজায়ের [আ.]-এর পূর্বেকার কিতাব জাবুরে জেরুসালেমের ব্যাপারে উল্লেখ ছিলো-‘কেননা খোদা সিয়োনের পরিত্রাণ করবেন ও ইহুদার নগরসমূহ গাঁথবেন; লোকে সেখানে বাস করবে ও অধিকার পাবে।’ তিনি এটা ভেবে হয়রান হয়ে গেলেন, আল্লাহ তায়ালা এই বিরানভূমিকে কীভাবে আবার আবাদ করবেন? আল্লাহ তায়ালা তার নবির ঈমানকে পূর্ণতা দিতেই তাকে একটি পরীক্ষার মধ্যে ফেললেন।

নবি উজায়ের আ. জেরুসালেমে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। নিজের গাধাটিকে একটি ছোট গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ছায়ায় বসে আহার সেরে ঘুমিয়ে পড়লেন।

এ বিষয়টি কুরআনের সুরা বাকারায় আল্লাহ তায়ালা সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন-
 ‘অথবা সেই লোকটির উপমা (চিন্তা করো) যে একটি জনপদের ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলো।সে বলেছিলো, ‘মৃত্যুর পর কিভাবে আল্লাহ্ এটাকে জীবিত করবেন?’ অতঃপর আল্লাহ্ তাকে একশ বছর মৃত রাখলেন, তারপর (পুনরায়) তাকে জীবিত করলেন।আল্লাহ্ বললেন, ‘(এরূপ অবস্থায়) তুমি কতো কাল অবস্থান করলে?’ সে বলেছিলো, ‘(সম্ভবত) একদিন বা দিনের কিছু অংশ।’ আল্লাহ্ বলেছিলেন, ‘না, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছো। তোমার খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি লক্ষ্ করো, সেগুলোতে দীর্ঘদিনের অবস্থানের কোনো চিহ্ন নেই এবং তোমার গাধাটির দিকে তাকাও। তোমাকে মানবজাতির জন্য নিদর্শন স্বরূপ করবো সে কারণে ভালোভাবে তাকাও (গাধাটির) অস্থিগুলোর প্রতি। কিভাবে সেগুলো আমি সংযোজিত করি এবং মাংস দ্বারা ঢেকে দেই।’ যখন তাকে তা সুস্পষ্টরূপে দেখানো হলো, সে বলেছিলো, ‘আমি জানি যে সকল বিষয়ের উপরে আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান।’
(সুরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৯)

এই ঘটনার পর তার ঈমান পূর্ণ হয় এবং অনেক ঐতিহাসিক লিখেছেন, এর পরপরই বনি ইসরাইলের প্রতি তাকে আল্লাহ নবি হিসেবে মনোনীত করেন। যা হোক, ১০০ বছর পর জীবিত হয়ে তিনি দেখতে পান জেরুসালেম নগরী আবার আবাদ হয়েছে। সেখানে লোকজন সুরম্য বসতি গড়ে তুলেছে। নগরীটি পূর্বের চেয়ে যেন আরও বেশি জৌলুশপূর্ণ হয়েছে। তিনি এসব দেখে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেন এবং নিজের দেশ ব্যাবিলনে ফিরে আসেন। কিন্তু ব্যাবিলনে ফিরে দেখেন, তার বাড়ি-ঘর আর আগের মতো নেই এবং সেখানের কোনো অধিবাসীকে তিনি যেমন চিনতে পারছেন না, তেমনি তারাও তাকে চিনতে পারছে না।অবশেষে উজায়ের আ.-এর এক ছেলে, যার বয়স তখন ১১০ বছরের অধিক, সে তার পিতার জন্মতিলক দেখে তাকে চিনতে পারে। যদিও পুত্রের চেয়ে পিতার বয়স তখন প্রায় ৭০ বছর কম ছিলো।

উজায়ের [আ.] তার মৃত্যু ও পুনরুজ্জীবনের ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলে ব্যাবিলনের ইসরাইলিরা তার পুনরুজ্জীবনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মনে করতে থাকে এবং তাকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে প্রচার করতে থাকে।

এ বিষয়ে আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
‘আবার ইহুদিরা বলে উজায়ের নাকি আল্লাহর পুত্র, আর খৃস্টানরা বলে মসিহ হচ্ছে আল্লাহর পুত্র। এসব হলো ওদের উদ্ভট কথাবার্তা যা ওদের মুখেই শোনা যায়। তারা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের পাদ্রী-পুরোহিতদেরকেই পালনকর্তা প্রভুর আসনে বসিয়ে রেখেছে। ওরা তো চায় নিজেদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে ফেলতে। (সুরা তওবা, আয়াত ৩০-৩২)

সূত্র : তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে তাবারি, উইকিপিডিয়া
হাফেজ মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

কোথায় আছে নবি মুসার [আ.] রহস্যময় অলৌকিক সেই সিন্দুক?

কোথায় আছে নবি মুসার [আ.] রহস্যময় অলৌকিক সেই সিন্দুক?
কোথায় আছে নবি মুসার [আ.] রহস্যময় অলৌকিক সেই সিন্দুক

 কোথায় আছে সেই রহস্যময় অলৌকিক সিন্দুক? কেন তাকে হাজার বছর ধরেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, অলৌকিক সিন্দুক’ বা ‘আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট’। আরবিতে এবং কুরআনের ভাষায়- ‘তাবুত’। রহস্যময় এই সিন্দুকের ব্যাপারে মুসলিম, ইহুদি, খৃস্টান- তিনটি ধর্মের অনুসারীরাই একমত যে, এ সিন্দুকটির অস্তিত্ব আছে এবং এটি অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন। আল্লাহর পক্ষ থেকে রহস্যময় এ সিন্দুকটি বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে প্রদান করেছিলেন তাদের নবি হজরত মুসা [আ.]। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কোথায় আছে সেই রহস্যময় অলৌকিক সিন্দুক? কেন তাকে হাজার বছর ধরেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? প্রতি শতাব্দীতে হাজারও রহস্যভেদী মানুষ সেই সিন্দুকটির খোঁজ করেছেন, কিন্তু পেয়েছেন বলে শোনা যায়নি।

এখনও একদল রহস্যসন্ধানী লোক সিন্দুকটি হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
খৃস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে নবি মুসার মৃত্যুর পর তার সান্নিধ্যধন্য নবি ইউশা ইবনে নুন সিন্দুকটির তত্ত্বাবধান করতেন। তার মৃত্যুর পর বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের পুরোহিতগণ এটি দেখাশোনা করতেন। কেননা এই সিন্দুকের অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বলে তারা বিশ্বাস করতো। তারা বিশ্বাস করতো, এই সিন্দুক সঙ্গে থাকলে কেউ তাদের পরাজিত করতে পারবে না এবং তারা সবার ওপর বিজয় অর্জন করবে।

বেশ কিছু বছর ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় সিন্দুকটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা সিন্দুকটি নিয়ে বিপাকে পড়ে। কেননা যেখানেই সেটি রাখা হতো তার আশেপাশের লোকজনের মধ্যে মহামারী প্লেগ ছড়িয়ে পড়তো। এভাবে বেশ কিছুদিন তারা সিন্দুকটিকে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরিত করে, একই ফল পাওয়া যায়। অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। উপায়ন্তর না দেখে তারা সিন্দুকটিকে একটি গরুর গাড়িতে করে অজানার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।
এরপর এটি বাদশাহ তালুতের হস্তগত হয়। তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ছিলেন। কুরআনে তার এবং সিন্দুকটির বর্ণনা এসেছে-
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آَيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آَلُ مُوسَى وَآَلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
‘বনি-ইসরাইলদেরকে তাদের নবি আরো বললেন,তালুতের নেতৃত্বের চিহ্ন হলো এই যে, তোমাদের কাছে একটা সিন্দুক আসবে যাতে থাকবে তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মনের প্রশান্তি, আর তাতে থাকবে মুসা, হারুন এবং তাঁদের সন্তানবর্গের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী। সিন্দুকটিকে বয়ে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে এতে তোমাদের জন্য নিশ্চিতই পরিপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৪৮)

এরপর সিন্দুকটি হজরত দাউদ [আ.]-এর হাতে আসে এবং তিনি তার পুত্র হজরত সোলায়মান [আ.]-কে এর তত্ত্বাবধানকারী নিযুক্ত করেন। হজরত সোলায়মান [আ.] আল্লাহর নির্দেশে জেরুসালেমে তার উপাসনালয় নির্মাণের সময় তাতে সিন্দুকটি স্থাপন করেন এবং সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেন। তার মৃত্যুর অনেক বছর পর ব্যাবিলনীয়রা জেরুসালেম দখল করে নেয় এবং তার উপাসনালয়টি ধ্বংস করে দেয়। এরপর থেকে সিন্দুকটির সঠিক অবস্থান আর জানা যায়নি। কিছু ইতিহাসগ্রন্থের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাবিলনীয়রা জেরুসালেমের অন্যান্য সম্পদের সাথে সিন্দুকটিও নিয়ে যায়। কেউ বলছেন, ওই সময় আল্লাহর আদেশে সিন্দুকটি বেহেশতে স্থানান্তরিত করা হয়।
এরপর সিন্দুকটির অবস্থান সম্পর্কে অনেক গুজব শোনা যায়।

শোনা যায়, সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির সময় ইউরোপিয়ান নাইট টেম্পলার যোদ্ধারা সিন্দুকটি জেরুসালেম থেকে পুনরুদ্ধার করে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ মত দেন, এটি ইউথিওপিয়ার অর্থোডক্স চার্চে সুরক্ষিত আছে। কারো কারো মতে, এটি ভ্যাটিকান চার্চের গোপন কুঠুরিতে সুরক্ষিত আছে। কিন্তু এসবই গুজব যার কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আর সিন্দুকটিও পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় বস্তু হিসেবেই মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।
[সূত্র : তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট]
হাফেজ মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

Tuesday, July 21, 2015

সালাতুল তাসবীহ পড়ার নিয়ম

সালাতুল তাসবীহ পড়ার নিয়ম
সালাতুল তাসবীহ নামায পড়ার নিয়ম- হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ) কে বলেন, “হে আব্বাস, আমার চাচা আমি কি আপনাকে একটি দান বা বকশিশ দিব, আপনার সামনে একটি তফফা পেশ করব, আমি কি আপনাকে এমন একটি আমল বলে দিব যা পালন করলে আপনি ১০ টি উপকার লাভ করবেন অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আপনার অতিত- ভবিষ্যতের, নতুন-পুরাতন, ভুলে বা জেনেশুনে, ছোট–বড়, গোপনে বা প্রকাশে করা সকল গুনাহ এ মাফ করে দিবেন।
সেই আমল হল আপনি ৪ (চার) রাকাত সালাতুল তাসবিহ আদায় করবেন। যদি আপনার দ্বারা সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন একবার এই নামাজ পরবেন, যদি প্রতিদিন পরতে না পারেন তবে প্রত্যেক জুমার দিন, আর সেটাও সম্ভব না হলে বছরে একবার এই নামাজ পরবেন। আর সেটাও সম্ভব না হলে জীবনে একবার হলেও পরে নেবেন”।

সালাতুল তাসবিহ পড়ার নিয়ম – হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক(রাঃ) ও অন্যান্য ওলামা হতে এই নামাজের
ফজিলত নকল করা হয়েছে এবং তাদের নিকট হতে এই তরিকা বর্ণনা করা হয়েছে- “ছানা পড়ার পর এই কালেমা
গুলি ১৫ বার – সুবহানাল্লহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর পরবেন,
অতঃপর আউজুবিল্লাহ, বিছমিল্লাহ, সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার পূর্বে ১০বার পরবেন, রুকুতে গিয়ে ১০বার পরবেন, রুকু থেকে উঠে ১০বার, সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর ১০ বার,বসে ১০ বার এবং আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর ১০ বার পরবেন, এভাবে ৭৫ বার পড়া হয়ে গেল, তারপর দাড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়ার পূর্বে ১৫ বার পরে পূর্বের নিয়মে পরে হবে।
যদি কোন জায়গায় সংখ্যা কম হয়ে যায় বা ভুলে যাওয়া হয় তবে পরবর্তী রুকুনে তা আদায় করতে হবে। আর ২ সিজদার মাঝখানে বা রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর দাড়িয়ে ভুলে যাওয়া তাসবিহ আদায় না করা। যদি নামাজে
সহু সিজদাহ দিতে হয় তবে সহু সিজদার মাঝে এই তাসবিহ গুলা পড়া লাগবেনা। তবে যদি কোন কিছুর রাকাত ভুলে যাওয়া হয় তবে সেখানে আদায় করলে চলবে। এই তাসবিহ গুলা পড়ার সময় আঙ্গুলে গোনা যাবেনা। তবে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিয়ে সংখ্যা কে মনে রাখা যেতে পারে।