Thursday, August 25, 2016

সর্বকালের সর্বসেরা সর্বশেষ শিক্ষক নিরক্ষর হয় কি করে ?

সর্বকালের সর্বসেরা সর্বশেষ শিক্ষক নিরক্ষর হয় কি করে ?
বিশাল এক দেশ । বিশাল সেই দেশের আয়তন । দেশটির প্রেসিডেন্টের বিশাল ক্ষমতা । তবে প্রেসিডেন্ট খুব দয়ালু । কিন্ত দুষ্টু লোকদের শাসনের বেলায় সাংঘাতিক কঠোর ও মায়ামমতা বিহীন।

যাইহোক, প্রেসিডেন্টের একদিন মনে হল যে, তার দেশে বহুদূরে একটা বড় জায়গা আছে । সেখানকার লোকেরা সবাই অশিক্ষিত ও গন্ডমূর্খ । প্রেসিডেন্ট মনস্থির করলেন যে, ঐ দেশে একজন শিক্ষক পাঠাবেন । প্রেসিডেন্ট স্বয়ং নিজেই সেই শিক্ষক মনোনীত ও নির্বাচিত করলেন । এবং যথাসময় ঐ শিক্ষক প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে সেই দেশে চলে গেলেন। বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল । প্রেসিডেন্ট এবার সিদ্বান্ত নিলেন যে , এবার কিছু বই বা কিতাব পাঠাবেন ।

রাজ দরবারে রাজদূতের তলব হল । বেশ কিছু বইখাতা নিয়ে রাজদূত ছুটে চললেন ঐ দেশের দিকে । বহু পথঘাট পেরিয়ে এক সময় ঐ দেশে পৌঁছে গেলেন রাজদূত । খুঁজতে খুঁজতে ঐ শিক্ষককে পেয়ে গেলেন শ্রেনীকক্ষে প্রচুর ছাত্র ছাত্রীকে শিক্ষাদানরত অবস্থায় । শ্রেনীকক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন রাজদূত । শিক্ষক আনন্দচিত্তে রাজদূতকে অনুমতি দিলেন ভিতরে প্রবেশের ।

বহুদিন পরে দেখা হল শিক্ষক ও রাজদূতের মধ্যে । অনেক জমান কথা হল উভয়ের মধ্যে । ছাত্র ও ছাত্রীরা হাঁ করে তাকিয়ে রইল দুজনের দিকে । একজনকে তো বিলক্ষন চেনে । কিন্ত নতুন আগুন্তককে চেনে না ।
শিক্ষক পরিচয় করিয়ে দিলেন । " ইনি হচ্ছেন এই দেশের প্রধান রাজদূত । আমাদের প্রেসিডেন্ট এনাকে পঠিয়েছেন এখানে । সবাই সালাম দাও " । শ্রেনীকক্ষের সকলেই উচ্চঃস্বরে রাজদূতকে সালাম দিল ।

রাজদূত বিস্মিত হল । এই জংলী দেশের ছেলেমেয়েরা বেশ সভ্য হয়ে গেছে । রাজদূত বুঝে গেল যে , এ সবই এই শিক্ষকের অক্লান্ত ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল । রাজদূত এবার শিক্ষককে তার আগমনের কারন বললেন ।
" মহান প্রেসিডেন্ট আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন এই বইগুলি দেবার জন্য । এখন থেকে আপনি এই বইগুলি ওদেরকে পড়াবেন , ঠিক আছে " ।

শিক্ষক অবাক চোখে রাজদূতের দিকে চেয়ে রইলেন ।
রাজদূত বললেন , " কি ব্যাপার , আপনি আমার দিকে অমন করে চেয়ে আছেন কেন ? "
শিক্ষক আরও ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলেন । সেই সাথে কেমন লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন ।
শ্রেনীকক্ষ ভরা ছাত্র ছাত্রী । শিক্ষক কিছু হয়ত বলতে চায় । কিন্ত পারছেন না ।
রাজদূত কিছুই বুঝতে পারছেন না । শিক্ষক কেন এমন করছেন ?

এখানে শিক্ষক হচ্ছেন সকলের গুরু । সকলে শিক্ষককে মানে ও সম্মান করে । কেননা একমাত্র শিক্ষক হচ্ছেন এখানে সকলের থেকে বেশী জ্ঞানী । এবং স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ওনাকে এখানে পাঠিয়েছেন । কিছুতেই বুঝতে পারছে না যে , শিক্ষক কেন এত লজ্জিত হচ্ছেন ?

রাজদূত বলতে বাধ্য হল , " দেখুন , আপনি আমারও গুরু । আমি তো সামান্য একজন বার্তাবহনকারী পিয়ন । কিন্ত আপনি হচ্ছেন শিক্ষক এবং স্বয়ং প্রেসিডেন্ট কতৃক নির্বাচিত । স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আপনাকে নিজে লেখাপড়া শিখিয়েছেন । তো আপনি এই বইগুলি দেখে এমন ভয় পাচ্ছেন কেন ? দয়া করে বলুন ।"

এবার শিক্ষক লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে ক্লাস ভর্তি ছাত্র ছাত্রীদের সামনে বলেই ফেললেন যে , " আমি তো উম্মি শিক্ষক । আমি লিখতে ও পড়তে জানি না " ।

পিনঃপতন নিঃস্তব্দতা নেমে এল ক্লাসরুমে ।
এবারে রাজদূতের মনে মনে ভারী রাগ হল ।
এজন্য রাগ হল যে ,
প্রেসিডেন্ট কি জানতেন না যে , ওনার প্রেরিত শিক্ষক একজন লেখাপড়া না জানা ব্যক্তি !
যে লোক নিজেই লেখাপড়া জানে না সে লোক অপরকে কিভাবে শিক্ষা দীক্ষা দেবে ?

আর একজন অশিক্ষিত লোকের কাছে এতদূর থেকে এই বইগুলি পাঠাবার কোন প্রয়োজন আছে কি ?
একজন শিক্ষককে কি একজন পিয়ন শিক্ষা দিতে পারে ?

একজন পিয়নের পক্ষে কি সম্ভব যে , ঐ শিক্ষককে বুকে জড়িয়ে ধরবেন আর চট করে ঐ শিক্ষক লেখাপড়া জানা হয়ে যাবে !
তাহলে ঐ শিক্ষকের মানসম্মান বলতে কিছু কি আর থাকল ?
ছাত্র ছাত্রীরা কি ভাববে এহেন অশিক্ষিত শিক্ষকের বিষয় !
সবচে বড় কথা - এরকম অশিক্ষিত লেখাপড়া না জানা লোককে শিক্ষা কার্যক্রমে কিভাবে পাঠায় - এ কেমন প্রেসিডেন্ট !
---------------------------------------------
সুপ্রিয় পাঠক ,
উপরে উল্লেখিত গল্পটি একটি রুপক গল্প ।
যে কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ এই গল্পটি মানবে না কিছুতেই । সকলেই ঐ প্রেসিডেন্ট এবং ঐ শিক্ষককে একটা আস্ত দায়িত্বহীন ও ফালতু লোক বলবেই বলবে ।
এবং এই বলাটা খুবই যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত বটে ।

পাঠক ,
বিস্ময়কর জঘন্য বিষয় হল যে , এই জাতীয় গাঁজাখুরী কেচ্ছাকাহিনী হাজার বছর ধরে আমাদের গলাধঃকরন করান হচ্ছে যে , আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) একজন নিরক্ষর লখা পড়া না জানা ব্যক্তি ছিলেন ।
বার্তাবহনকারী ফেরেশতা নাকি ওনাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন বিধায় উনি চট করে লেখা ও পড়তে সক্ষম হয়েছিলেন ।

আপনি আরও অবাক হবেন যে , এই জাতীয় চরম অযৌক্তিক মিথ্যা কেচ্ছা কাহিনী অন্য কোন নবী রাসুলের ক্ষেত্রে বলা হয় না ।

উপসংহার , আর আমরাও সেই রকম বিশিষ্ট উম্মত - এই জাতীয় গাঁজাখুরী কাহিনী অবলীলাক্রমে বিশ্বাস করি বটে । নিজের কোন প্রিয়জন বা কোন শিক্ষকের বেলায় কিছুতেই বিশ্বাস করব না এই জাতীয় গল্প ।

কিন্ত বড়ই অদ্ভত যে , প্রিয় নবীজী (সাঃ) এর ক্ষেত্রে কোন যাচাই বাছাই না করে আমার মত কাঠমোল্লা বনু উমাইয়াদের বাজারজাতকৃত গল্প কি সুন্দর ভাবে মুসলিম উম্মত পান করে যাচ্ছে হাজার বছর ধরে !!

হায় , বনু সকীফা !
হায় , বনু সকীফা !!

পবিত্র কোরআনে এই আয়াতটি বোধহয় এজন্যেই অবতীর্ন হয়েছে যে -

" -- তোমাদের কি হয়েছে , তোমরা কেমন বিচার করছ ? তবে কি তোমরা চিন্তা ভাবনা কর না --- " ?
সুরা - সাফফাত / ১৫৪ , ১৫৫ ।

এখনো কি ভাবার সময় আসেনি ? রাসুল সাঃ এর নামে মিথ্যাচার কিভাবে সহ্য করেন ???

(আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ)

Wednesday, August 26, 2015

রাসুলের(সাঃ) ছিনা চাক/ বক্ষ প্রশস্ত হওয়া সম্পর্কে

রাসুলের(সাঃ) ছিনা চাক/ বক্ষ প্রশস্ত হওয়া সম্পর্কে
রাসুলের(সাঃ) ছিনা চাক/ বক্ষ প্রশস্ত হওয়া সম্পর্কে
সুরা ইনশিরাহ,আয়াত# ১-৮
মুলঃমাওলানা ফরমান আলীর উর্দু তাফসীর
অনুবাদঃ মাওলানা শেখ সাবের রেজা
সম্পাদনা ও পুনর্লিখনঃ হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আনোয়ারুল কবির আরিফ(ষ্টুডেন্ট অফ পি এইচ ডি,ইরান)
প্রকাশকঃঈমান ফাউন্ডেশনের পক্ষে,নুরুস সাকলায়েন জনকল্যান সংস্থা,বেগম বাজার,ঢাকা।
“ আমরা কি তোমার জন্য তোমার বক্ষ প্রশস্ত করিনি(১)? এবং তোমার থেকে তোমার ভার অপসারন করিনি?যা তোমার পৃষ্টকে ভেঙ্গে ফেলছিল; এবং আমরা তোমার স্মরনকে উন্নীত করেছি।সুতরাং নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।সুতরাং যখন অবসর পাও (নবুওতের দায়িত্ব সম্পন্ন কর) তখন ( স্থলাভিষিক্ত মনোনয়নের) কঠোর প্রচেষ্টায় রত হও(২)।এবং তোমার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ কর।
ব্যাখ্যাঃ এ সুরায় প্রথমত আল্লাহ রাসুলের(সাঃ) বক্ষ জ্ঞানে পরিপুর্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।(তা সত্ত্বেও তাফসীরকারকগন এ কথা বলে থাকেন যে, ফেরেস্তা রাসুলের(সাঃ) বক্ষ বিদারন (ছিনা চাক) করেছেন এবং তাঁর অন্তর ধৌত করেছেন ।এটা বিবেক-বুদ্বির সম্পুর্ন বিপরীত ও অযৌক্তিক কথা।কারন বক্ষ ধৌত করার মাধ্যমে কখনো আত্নিক পরিশুদ্বতা অর্জিত হয় না)।দ্বিতীয়ত আল্লাহ তাঁর প্রতি এ অনুগ্রহ করেছেন যে, পবিত্র কোরান ব্যাখ্যা ও ঐশী বিধিবিধান পৌছানো এবং তা বাস্তবায়িত করার যে গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে ছিল তা হযরত আলীর(আঃ) খেলাফত ও প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে লাঘব করে দিয়েছেন।আর যেহেতু এ আদেশ অর্থাৎ আলীর(আঃ) খেলাফতের ঘোষনাকে তিনি খুব কঠিন কর্ম গন্য করেছিলেন সে কারনে আল্লাহ যেরুপে অন্য স্থানে অন্য বাক্যে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। অনুরুপ এস্থলেও এভাবে বলেছেন যে, যখন অবসর পাও অর্থাৎ যখন তুমি বিদায় হজ্ব পালন করে নবুওতের দায়িত্ব সম্পন্ন করে নেবে তখন আলীকে খলিফা নিযুক্ত করার কঠিন প্রচেষ্টায় রত হও।অতপর আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করবে।অর্থাত ইন্তেকালের প্রস্তুতি নেবে।যদিও সুন্নী তাফসীরকারকগন এরুপ ব্যাখ্যা করেননি, তবুও বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিগন আল্লাহর কামনাকে যদি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করেন এবং এই ব্যাখ্যা ও সুন্নীদের ব্যাখ্যাকে কোরানের বাক্যের সঙ্গে তুলনা করেন বা মিলিয়ে দেখেন তাহলে জানতে পারবেন যে, কোনটি সঠিক।আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

২) আলুসী তাঁর ‘রুহুল মায়ানী’ গ্রন্থে জামাখশারীর ‘তাফসীরে কাশশাফ’ গ্রন্থের সুত্রে বলেছেন, যদি শিয়ারা আলোচ্য আয়াতের ‘ফানসাব’ শব্দটিকে ‘ফানসিব’ (নিযুক্ত কর) অর্থে গ্রহন করে এটাকে হযরত আলীর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্বপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহন করে তবে হযরত আলীর শত্রুরা(নাসেবীরা) ‘ফানসাব’ শব্দটিকে নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে হযরত আলীর বিদ্বেষের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে করলে আপত্তি করা যাবে না।একথার মধ্যে জামাখশারী অনেক বড় ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন যে, শিয়াদের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি হযরত আলীর অবমাননা করেছেন। তিনি কি গাদীরের হাদিসসহ হযরত আলীর মনোনয়নের স্বপক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সুত্রে হাদিস সমুহ দেখেননি? তদুপরি এ আয়াতের শানে নুযুলে আমাদের উল্লেখিত ব্যাখ্যার সমর্থনে আবুল কাসেম হাসকানীর শাওয়াহেদুত তানজিল(২য় খন্ড,পাতা-৩৪৯) গ্রন্থে বেশ কিছু রেওয়ায়েত( হাদিস# ১১১৬-১১১৯) বর্নিত হয়েছে।আর আলোচ্য বিষয়টি প্রমানের জন্য ‘ফানসাব’ শব্দটিকে ‘ফানসিব’ অর্থে গ্রহন করার কোন দরকার নেই।