Sunday, November 1, 2015

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম হাজ্বী কে ?

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম হাজ্বী কে ?
হজ্বের মৌসুমে অনেকেই এ প্রশ্ন করেন যে , পৃথিবীতে সর্বপ্রথম হাজ্বী কে এবং তিনি কখন এই হজ্ব সম্পাদন করেছেন ?
উত্তর -
মানবজাতির সর্বপ্রথম হাজ্বী হলেন হযরত আদম (আঃ)
হাদিস ও ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী , তওবা কবুল হওয়ার পর তথা বেহশত-সদৃশ বাগান থেকে পৃথিবীতে আসার পর , তিনি এই হজ্ব পালন করেছিলেন জিলহজ মাসেই ।

ইব্রাহিমের বংশধরদের মধ্যে হজ্বের প্রচলন হল কিভাবে ?

ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ) মহান আল্লাহর নির্দেশে কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন এবং জিলহজ মাসে হজ্ব আদায় করেন । এরপর থেকে তাঁদের বংশধররা শত শত বছর ধরে হজ্ব পালন করে আসছিলেন মক্কার কাবা ঘরে । কিন্ত ধীরে ধীরে আরব উপদ্বীপের মানুষ কুফর ও শির্কে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তারা কাবা ঘরে নানা মূর্তি বসিয়ে সে সবের উপাসনা শুরু করে । অবশ্য অহংকার প্রকাশের জন্য হজ্ব অনুষ্ঠানের প্রথাও তারা চালু রেখেছিল বিকৃতভাবে ।

কিভাবে জিলহজ মাসে হজ্ব প্রথা চালু হয় ?

আরবরা জিলকদ ও জিলহজ মাসকে পবিত্র বা হারাম মাস বলে গণ্য করত । কিন্ত তারা চালাকি করে মহরম মাসকে পবিত্র মাসের তালিকা থেকে বের করে নেয় । অন্যদিকে সফর মাসকে পবিত্র বলে ঘোষণা করে । এভাবে তারা তিনটি মাসকে পবিত্র বলে ঘোষণা করার পাশাপাশি মহররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ , বিবাদ ও লুটপাট করাকে নিজেদের জন্য বৈধ বা হালাল করে নেয় । পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী , আরবের কাফিররা একেক বছর একেক মাসকে হালাল ও হারাম বলে ঘোষণা করত । এভাবে তারা হজ্বের মাসে প্রচলিত খোদায়ী প্রথাগুলোকে বিলুপ্ত করে দেয় । কিন্ত ইসলামের নবী (সাঃ) এর আবির্ভাবের ফলে ও তাঁর নেতৃত্বে মক্কা জয়ের সুবাদে আবারও জিলহজ মাসে হজ্ব প্রথা চালু হয় এবং হজ্ব ফিরে পায় তার অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আসল ও যথাযথ রূপ । আরবরা অষ্টম হিজরিতে হজ্ব আদায় করেছিল জিলকদ মাসে । কিন্ত তারা নবম ও দশম হিজরিতে জিলহজ মাসেই হজ আদায় করে । বিশ্বনবী (সাঃ) জীবনের প্রথম ও শেষ বিদায় হজ্ব পালন করেছিলেন দশম হিজরির জিলহজ মাসে । সেই থেকে জিলহজ মাসেই হজ আদায় করাকে ওয়াজিব করা হয় ।
(লেখাটি সংগৃহীত)
***আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম***

Tuesday, October 6, 2015

ইহরাম বাধার পর ৮টি কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ইহরাম বাধার পর ৮টি কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
হজের জন্য ইহরামের গুরুত্ব অত্যধিক। কারণ ইহরাম হলো হজের প্রথম রুকন। ইহরামের মাধ্যমেই মানুষ হজ ও ওমরার প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যার ফলে ইহরামের মাধ্যমে অবৈধ সব কর্মকাণ্ড তো বটেই, সাধারণ সময়ের বৈধ কাজও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ইহরামের নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় কাজগুলো নিম্নরূপ:

ইহরামকারীর জন্য যা নিষিদ্ধ বা বর্জনীয়:

১. এক সঙ্গে হজ বা ওমরায় গমণকারী স্বামী-স্ত্রীগণ পরস্পরের সঙ্গে যৌন সম্ভোগ নিষিদ্ধ। এমনকি এ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনাও নিষিদ্ধ।
২. পুরুষের জন্য সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান করা, তবে স্ত্রীলোকদের জন্য তা নিষিদ্ধ নয়।
৩. মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা,  তাঁবু ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়। স্ত্রীলোকগণ মাথা ঢাকতে পারেন তবে মুখ অনাবৃতই রাখবেন।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৫. চুল বা পশম কাটা বা উপড়ানো।
৬. নখ কাটা, তবে ভাঙ্গা নখ ভেঙ্গে ফেলায় ক্ষতি নেই।
৭. কোনো স্থলজ পশু শিকার করা। আল্লাহ বলেন, ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু লা তাক্বতুলুস সাইদা ওয়া আনতুম হুরুমুন। অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! ইহরামরত অবস্থায় শিকার করো না। (সূরা মায়িদা : আয়াত ৯৫)  অনুরূপভাবে শিকারকে হাঁকানো বা কাউকে দেখিয়ে শিকারের কাজে সহযোগিতা করা বা যবেহ করা নিষিদ্ধ।
৮. নিজের শরীর বা মাথা থেকে উকুন বা উকুন জাতীয় প্রাণী বধ করা। তবে সাপ, মশা-মাছি, ডাশ, গিরগিটি, ইঁদুর, পাগলা কুকুর ইত্যাদি মারার বৈধতা রয়েছে।

ইহরামকারীর জন্য যা মাকরূহ:

১. শরীর থেকে ময়লা দূর করা, মাথা বা দাড়ি ও দেহ সাবান দ্বারা ধৌত করা।
২. মাথায় চুল বা দাড়ি চিরুণীর দ্বারা আঁচড়ানো। এমনভাবে চুলকানোও নিষিদ্ধ যে, চুলকানোর সময় উকুন পড়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।
৩. দাঁড়ি খিলাল করাও  মাকরূহ, তবে দাঁড়ি পড়ে যায় না এমনভাবে খিলাল করায় কোনো ক্ষতি নেই।
৪. লুঙ্গি অর্থাৎ নিম্নাঙ্গের কাপড়ের সামনের দিকে সেলাই করা। তবে কেউ সতর ঢাকার নিয়্যাতে এরূপ করলে তা ওয়াজিব হয় না।
৫. গিরা দিয়ে চাদর অথবা লুঙ্গি পরা, সুই পিন ইত্যাদি লাগানো বা সূতা ও দড়ি দিয়ে তা বাঁধা।
৬. সুগন্ধি স্পর্শ করা অথবা ঘ্রাণ নেয়া, সুগন্ধি লাভের উদ্দেশ্যে সুগন্ধি বিক্রেতার দোকানে বসা, সুগন্ধিযুক্ত ফল অথবা ঘাসের ঘ্রাণ নেয়া।
৭. মাথা ও মুখ ব্যতিত শরীরের অন্যান্য অংশে বিনা প্রয়োজনে পট্টি বাঁধা। প্রয়োজনে পট্টি বাঁধা মাকরূহ নয়।
৮. কা’বা শরীফের পর্দার নিচে এমনভাবে দাঁড়ান যে তা মাথায় বা মুখে লেগে যায়।
৯. লুঙ্গিকে ফিতা লাগাবার মত ভাঁজ করে তা সূতা বা দড়ি দিয়ে বাঁধা
১০. নাক, থুতনী ও গাল কাপড় দিয়ে ঢাকা। তবে হাত দিয়ে ঢাকা যাবে।
১১. বালিশের ওপর মুখ রেখে উপুড় হয়ে শোয়া। মাথা বা গাল বালিশে রাখায় ক্ষতি নেই।
১২. রান্নাবিহীন সুগন্ধি খাবার খাওয়া। তরে রান্না করা সুগন্ধি খাবার মাকরূহ নয়।